যুক্তরাষ্ট্রে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০১২ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যুর ঘটনায় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁর বন্ধু ও সহপাঠীরা।

বন্ধুদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ডে নিজ বাসভবনে ইরফানকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে প্রায় নয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তিনি মারা যান।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ঘটনাটিকে আত্মহত্যাজনিত ফাঁসের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এর আগে ও পরের ঘটনাপ্রবাহে কিছু অসংগতি রয়েছে, যা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

বন্ধুদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে ইরফানের একটি কর্মস্থল-সংক্রান্ত প্রেজেন্টেশন ছিল। সেটি শেষ হওয়ার পর তিনি টিমের গ্রুপ চ্যাটে বার্তা পাঠিয়ে জানান, "Athe" অসুস্থ বোধ করছে এবং তিনি দিনের বাকি সময় ছুটি নেবেন। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সহকর্মীদের অনেকেই "Athe" নামে কাউকে চিনতেন না।

এদিকে, পালো অল্টো পুলিশ বিভাগের নথির বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইরফানের বাসা থেকে ৯১১ নম্বরে জরুরি কল করা হয়। বন্ধুদের দাবি, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দীর্ঘ সময় মস্তিষ্কে অক্সিজেন বা রক্ত সরবরাহ না হওয়ায় তাঁর মস্তিষ্কে অপরিবর্তনীয় ক্ষতি হয়েছিল। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সময়রেখা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরফানের পেশাগত জীবন সফল ছিল এবং সম্প্রতি তিনি পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তবে ব্যক্তিগত ও বৈবাহিক জীবন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু দাবি করেছেন।

এছাড়া, ইরফানের স্ত্রী অ্যাথেনার বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বন্ধুরা তাদের বিবৃতিতে বলেন, ইরফানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন, সম্ভাব্য সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজন হলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় যাদের কাছে কোনো তথ্য বা প্রমাণ রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।