ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৮ আগস্ট জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক স্মরণ, শ্রদ্ধা ও ঐক্য অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের কাবাব কিং রেস্টুরেন্টে প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি-আমেরিকান প্যাট্রিয়টসের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন এ. কে. আব্দুল কাদের।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. শেখ মিজানকে প্রধান করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ড. আবিদ বাহার, ডা. জুনুন চৌধুরী, মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, রহমত উল্লাহ, হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন, এমদাদ চৌধুরী দীপু, মিসবাহ উদ্দিন আহমদ, এ. কে. আব্দুল কাদের, আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল করিম, নূরুল হক চৌধুরী, জাবেদ আহমদ, আব্দুল আলীম এবং দীপন গাজী।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহীদদের আত্মত্যাগ ও আহত সংগ্রামীদের অবদান স্মরণে দ্বিতীয় বার্ষিকীকে শুধু স্মরণানুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস, মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনা তুলে ধরার একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উদযাপন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘জান দেবো, কিন্তু জুলাই দেবো না’ প্রতিপাদ্যে এবং শহীদ ওসমান বিন হাদির স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত আন্তর্জাতিক স্মরণ, শ্রদ্ধা ও ঐক্য অনুষ্ঠান আগামী ৮ আগস্ট নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও বিশেষ দোয়া, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণ, দেশাত্মবোধক ও সংগ্রামী সংগীত, ইসলামী নাশীদ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আর্ট ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ভিডিও ডকুমেন্টারি, উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পর্ব, আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাঙ্ক সেশন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তি ও সংগঠনকে সম্মাননা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

বক্তারা বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী, গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামনে জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বার্তা তুলে ধরা হবে।

সভার শেষে মোহাম্মদ আজিজুর রহমান ও ড. শেখ মিজান অনুষ্ঠানটি সফল করতে প্রবাসী বাংলাদেশি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণমাধ্যম, মানবাধিকারকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ‘উই আর দ্য পিপলস’র প্রধান জ্যাকব মিল্টন, কবি  কাজী জহিরুল ইসলাম , ড. নিজাম উদ্দিন (এনওয়াইইউ), ডা. জুনুন চৌধুরী (নিউরোলজি অ্যান্ড সাইকিয়াট্রি), প্রফেসর শেখ মিজান, ড. শামীম আহমেদ (ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস), ড. কাওসার আহমেদ (এনওয়াইইউ), গোলাপী বেগম, মিসেস রুকসানা, এমদাদ চৌধুরী দীপু (বাংলাদেশ ফোরাম), হাজী আনোয়ার হোসেন (কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট), রকস্টার ব্যান্ডের ভোকাল বিপ্লব, শাহ ইসলাম, এমডি আশিক, এমডি আরমান, এমডি শফিক, এমডি রেজাউল করিম এবং দীপন গাজীসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।