ওয়াশিংটন ডিসি: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগির হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে “খুব শিগগির” হামলা চালাতে পারে। তবে তিনি হামলার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কী এই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন?

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থিত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্স। স্থাপনাটিতে পাহাড়ের গভীরে নির্মিত দুটি বড় টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে বলে বিভিন্ন স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। রয়টার্স -এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত এই স্থাপনাটি গভীর ভূগর্ভে নির্মিত হওয়ায় সামরিক হামলার ক্ষেত্রে এটি একটি কঠিন লক্ষ্য হতে পারে।

স্থাপনাটির ভেতরে ঠিক কী ধরনের সরঞ্জাম বা পারমাণবিক উপকরণ রয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্য তথ্য সীমিত। ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন যুক্তরাষ্ট্রের নজরে এসেছে।

হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন সতর্কবার্তা

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়ে ট্রাম্প এর আগেও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তবে শুক্রবারের বক্তব্যে তিনি আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। আনাদলু এজেন্সি (Anadolu Agency)-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প চলমান সংঘাতকে বড় ধরনের যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা না করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার কথা বলেছেন এবং পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার সম্ভাবনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে হামলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বা হামলা অবশ্যম্ভাবী—এমন তথ্য নিশ্চিত হয় না।

নাতাঞ্জের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নাতাঞ্জ অতীতেও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। রয়টার্স -এর তথ্য অনুযায়ী, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ টানেলগুলো পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত। ফলে স্থাপনাটিতে সরাসরি হামলা চালানো সামরিকভাবে জটিল হতে পারে।

ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। বিশেষ করে গভীর ভূগর্ভে নির্মিত স্থাপনাগুলোতে পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম স্থানান্তর করা হয়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা

ট্রাম্পের নতুন হুমকি এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। শুক্রবারই যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ তুরস্কভিত্তিক গোল্ডে গ্লোবাল ব্যাঙ্ক (Golden Global Bank) এবং এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট লেনদেনে ভূমিকা রেখেছে। ফলে একই দিনে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক—দুই ধরনের চাপই সামনে এসেছে।

এখন কী হতে পারে?

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা চলমান সংঘাতের আরও একটি বড় পর্বের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে স্থাপনাটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বলে যে অভিযোগ রয়েছে, সেটিকে কেন্দ্র করে হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প শুধু সম্ভাব্য হামলার কথা বলেছেন; হামলার নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় ঘোষণা করা হয়নি। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।