Shibbir Ahmed প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:০৯ এএম

শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি বিভাগ তুরস্কভিত্তিক গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক (Golden Global Bank) এবং ব্যাংকটির দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যাংকটির লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইরানের প্রবেশাধিকার সহজ করার অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাটি নেওয়া হয়েছে Executive Order 13902-এর আওতায়।
‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিষেধাজ্ঞা “Operation Economic Outcast”-এর অংশ। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরানের এমন আর্থিক নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করা, যেগুলোর মাধ্যমে দেশটি তেল বিক্রির অর্থ স্থানান্তর, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করে বলে ওয়াশিংটন অভিযোগ করছে।
ট্রেজারি বলেছে, ইরানের এসব নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে ইরানি অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পায় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি।
ট্রেজারি আরও জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে অর্থপাচার বা নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা যেকোনো প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।
ব্যাংক ও দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞার তালিকায়
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে Golden Global Yatirim Bankasi Anonim Sirketi, যা Golden Global Bank নামে পরিচিত। একই সঙ্গে ব্যাংকটির দুটি তুরস্কভিত্তিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান—Golden Global Varlik Kiralama Anonim Sirketi এবং Golden Global Portfoy Yonetimi Anonim Sirketi—কেও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ, গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সুবিধা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ইরানের ওপর আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন
সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক চাপের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর আগে ২৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়।
মার্কিন ট্রেজারি বলছে, ইরানের ওপর আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো দেশটির আন্তর্জাতিক আর্থিক কার্যক্রমকে সীমিত করলেও বিভিন্ন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে নতুন আর্থিক চ্যানেল তৈরি করা হয়েছে। এসব চ্যানেল বন্ধ করাই Operation Economic Outcast-এর অন্যতম লক্ষ্য।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কী হবে?
নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আওতাধীন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক ও তালিকাভুক্ত সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ বা সম্পদের স্বার্থ থাকলে তা সাধারণভাবে অবরুদ্ধ হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য এসব নিষেধাজ্ঞাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্দিষ্ট ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ হবে, যদি না মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিশেষ অনুমতি দেয়।
মার্কিন ট্রেজারির Office of Foreign Assets Control (OFAC) ৪ সেপ্টেম্বর ইরান-সম্পর্কিত নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি Iran General License CC জারি করেছে। এর মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কিছু লেনদেন সীমিত সময়ের মধ্যে বন্ধ বা গুটিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী ব্যাংকগুলোর জন্য সতর্কবার্তা
গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের বক্তব্য হলো, ইরানের অর্থ স্থানান্তর, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো বা অর্থপাচারের সঙ্গে যুক্ত হলে তৃতীয় দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ট্রেজারি জানিয়েছে, Operation Economic Outcast-এর আওতায় ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক অর্থপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত আরও প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করার কাজ অব্যাহত থাকবে। OFAC-এর তথ্য অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইরান-সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমের সর্বশেষ ধাপ হিসেবে গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র: U.S. Department of the Treasury এবং Office of Foreign Assets Control (OFAC).