Shibbir Ahmed প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০৮ এএম

শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির চাপ বাড়ায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সামরিক সম্পদ সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে চীন ও উত্তর কোরিয়াকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ কৌশল নিয়ে এশিয়ার মিত্র দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো, জাপানে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। রণতরীটি দীর্ঘদিন ধরে ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযানে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছে। এর ফলে সাময়িকভাবে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমানবাহী রণতরী থাকছে না।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ছয় মাসের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সম্পদের ওপর চাপও বাড়ছে। দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে থাকা আব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে জর্জ ওয়াশিংটনকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত সেই চাপেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
এশিয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পুনর্বিন্যাস নিয়ে এশিয়ার মিত্র দেশগুলো বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার ফলে চীনকে প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হতে পারে।
বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সামরিক শক্তি দ্রুত বাড়ছে। তাই ওই অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর অনুপস্থিতি সামরিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ সামরিক বাহিনী এখনো বহাল রয়েছে এবং এই পরিবর্তনকে স্থায়ী প্রত্যাহার হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রেও নতুন প্রশ্ন
এই সামরিক পুনর্বিন্যাসের সময়েই উত্তর কোরিয়া প্রায় ১০টি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে দিয়েছে এবং মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের ছয় দিন আগেই শেষ হয়েছে।
ওয়াশিংটন একদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে এশিয়ায় সামরিক সম্পদের ব্যবহার পুনর্বিন্যাস করছে। ফলে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো মিত্রদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চীনের জন্য কি সুযোগ তৈরি হচ্ছে?
বিশ্লেষকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলকে কতটা প্রভাবিত করবে। যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে ইরান, চীন, উত্তর কোরিয়া ও অন্যান্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গিয়ে সামরিক সম্পদের ওপর চাপের মুখে পড়ছে। মার্কিন অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো বা পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনাও পেন্টাগন পর্যালোচনা করছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যই বদলে দিচ্ছে না; এর প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কৌশলেও। এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার ফলে এখন বড় প্রশ্ন—ওয়াশিংটন কি একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইন্দো-প্যাসিফিক—দুই ফ্রন্টেই আগের মতো শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে পারবে?