খবর প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

হুমায়ূন কবীর ঢালী: স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে ১-০ গোলে হেরে আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হওয়ার ফলে হয়তো সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার গৌরব হাতছাড়া হয়েছে এবং সামান্য আক্ষেপও থেকে গেছে, কিন্তু একটি মাত্র ম্যাচের ফলাফল কখনোই একজন ফুটবল-সম্রাটের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের প্রকৃত মূল্যায়ন হতে পারে না। ট্রফি বা পরিসংখ্যানের গণ্ডি পেরিয়ে লিওনেল মেসি এমন এক অনন্য উচ্চতায় আসীন, যেখানে তিনি নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দী এবং সবুজ গালিচায় তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
ছোটবেলা থেকেই শারীরিক প্রতিকূলতা জয় করে ফুটবল পায়ে মাঠে নামা মেসি প্রমাণ করেছেন যে ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিভা সব বাধাকে তুচ্ছ করতে পারে, আর তাঁর পায়ের জাদুকরী ড্রিবলিং, ডিফেন্ডারদের চোখের পলকে বোকা বানিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা এবং নিখুঁত ফ্রি-কিক বিশ্বজুড়ে দর্শকদের আজীবন মোহাবিষ্ট করে রেখেছে।
বার্সেলোনা থেকে শুরু করে পিএসজি ও ইন্টার মায়ামি—ক্লাব ফুটবলের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি নিজেকে পরম শ্রেষ্ঠত্বে প্রমাণ করেছেন এবং রেকর্ড সংখ্যক ব্যালন ডি'অর জয় থেকে শুরু করে প্রতিটি কীর্তি তাঁর সাফল্যের মুকুটে হীরের মতো জ্বলজ্বল করছে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে বহু ঐতিহাসিক মুহূর্ত উপহার দিয়ে তিনি দেশের কোটি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন, এবং ২০১৪ সালের আক্ষেপ পেরিয়ে কোপা আমেরিকা ও ২০২২ সালের অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ জয় প্রমাণ করেছে কীভাবে তিনি দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
স্পেনের কাছে সাম্প্রতিক পরাজয় হয়তো একটি টুর্নামেন্টের ট্রফি কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু বিশ্ববাসীর হৃদয় থেকে তাঁর শৈল্পিক সৌন্দর্য ও নেতৃত্বকে একটুও ম্লান করতে পারেনি। লিওনেল মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং তিনি একটি যুগের নাম, ফুটবলের কবিতার পঙক্তিমালা এবং বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের আবেগের অন্য নাম। ফুটবল ইতিহাসের পাতায় তাঁর এই অবদান চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এবং সময়ের স্রোতে তিনি আরও বেশি উজ্জ্বল এক নক্ষত্র হয়ে ভাস্বর থাকবেন কারণ তিনি সত্যিই অনন্য, অতুলনীয় ও অদ্বিতীয়।