NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ | ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্প-মেলানিয়ার সংসারে ‘পরকীয়ার’ গুঞ্জন আরো তীব্র হলো কী বার্তা নিয়ে মস্কো গেলেন ট্রাম্পের দূতরা ‘আমার খেলার মানের কাছাকাছিও নেই’—এনজোকে নিয়ে ব্রুইনার কড়া মন্তব্য ভেনিসে প্রশংসিত প্যাটিনসনের ‘প্রাইমটাইম’ ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে ‘ছোটখাটো ব্যাপার’ বললেন ট্রাম্প, নিহত ১৮ মার্কিন সেনা বি১ বি২ ভিসাধারীদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস, সাংবাদিকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ শিগগিরই হামলার হুমকি ট্রাম্পের ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্কে বড় আঘাত, তুরস্কের গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ
Logo
logo

কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৪, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ


খবর   প্রকাশিত:  ১০ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ এএম

কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৪, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ

কক্সবাজারে টানা ৬ দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার রামু, চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৪ লাখেরও বেশি মানুষ। বর্ষণজনিত পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কয়েকটি অংশ ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

 

একই সঙ্গে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে প্রাণহানিও বাড়ছে। সর্বশেষ চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে জেলায় পাহাড়ধসে ২০ জন এবং পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে ও ডুবে ৪ জনসহ মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজকাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মোহাম্মদ ওয়াকিম (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে তৌসিফ (১৪) ও রুমি আক্তার (১৭) নামের চাচাতো ভাই-বোন নিহত হন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে বিভিন্ন এলাকায় উপচে পড়েছে।

রামু উপজেলার গর্জনীয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, রাজারকুল, চাকমারকুল ও দক্ষিণ মিঠাছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

 

চকরিয়া উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী এবং পৌরসভার নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর, কোনাখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বদরখালী, ঢেমুশিয়া ও সাহারবিল ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মাতামুহুরির কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুইত্যাখালী এলাকায় মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে বানের পানি ঢুকে পড়ে। এতে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া, রাজাখালী, মগনামা, শিলখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকাও বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় যানচলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো সরকারি সহায়তা অনেক এলাকায় পৌঁছেনি।

এদিকে নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ত্রাণ বিতরণের জন্য মজুদ রয়েছে খাদ্যসামগ্রী, মেট্রিক টন চাল এবং ১০ লাখ টাকা। প্রয়োজন হলে আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ৬ দিনে কক্সবাজারে ৬৫০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।