NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাইল পাকিস্তান শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধে ফ্রান্সে আইন পাস নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটির নেই : মামদানি আটকের সময় রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সদস্যের বার্তা—‘মোদিকে হটাও’ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে গিয়ে আটক, পরে মুক্ত ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব : প্রধানমন্ত্রী কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে সহায়তার প্রতিশ্রুতি—প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে এবার র‌্যাংকিংয়েও শীর্ষে স্পেন
Logo
logo

রামিসার খালি বেঞ্চ দেখে বাবার আহাজারি, কান্নায় ভেঙে পড়ল সহপাঠীরাও


খবর   প্রকাশিত:  ২২ মে, ২০২৬, ০৮:০৫ এএম

রামিসার খালি বেঞ্চ দেখে বাবার আহাজারি, কান্নায় ভেঙে পড়ল সহপাঠীরাও

চিরতরে মাটির নিচে ঘুমিয়ে পড়েছে ছোট্ট রামিসা। কিন্তু বাবা আবদুল হান্নান মোল্লার হৃদয় এখনো মেনে নিতে পারছে না মেয়ের না-ফেরার নির্মম বাস্তবতা। প্রিয় কন্যাকে দাফন করে বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকায় ফিরে তিনি ছুটে যান মিরপুরের পপুলার মডেল স্কুলে। দ্বিতীয় শ্রেণির সেই পরিচিত শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ছোট ছোট সহপাঠীদের ভিড়ে যেন বারবার নিজের মেয়েকেই খুঁজছিলেন তিনি।

ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের দেখে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন বাবা। তার কান্নায় অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ে রামিসার সহপাঠীরাও।

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে গত মঙ্গলবার হত্যা করা হয়। গ্রেফতার আসামি সোহেল রানার জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ করা হয়।

গত বুধবার রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে এশার নামাজ শেষে রামিসার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

মেয়েকে শেষ বিদায় জানিয়ে ঢাকায় ফিরে বৃহস্পতিবার রামিসার স্কুলে যান বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। পপুলার মডেল স্কুলে গিয়ে কিছু সময় কাটান মেয়ের সহপাঠীদের সঙ্গে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে রামিসার খালি জায়গা আর ছোট্ট বন্ধুদের মুখ দেখে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন অসহায় এই বাবা। তার কান্না ছুঁয়ে যায় শিশু সহপাঠীদেরও— তারাও বাবাকে ঘিরে ধরে অঝোরে কাঁদতে থাকে।

এর আগে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিচারব্যবস্থার প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায় রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লাকে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, নিজের মেয়ের হত্যার বিচারও আর চান না তিনি। তার ভাষায়, ‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই।’

তিনি আরও বলেন, আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।

রামিসা হত্যাকাণ্ডে মামলা করেছেন তার বাবা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার সময় ঘরের একটি কক্ষে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রেখেছিলেন সোহেল। পরে মরদেহ টুকরা করে গুমের প্রস্তুতির সময় রামিসার স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান সোহেল ও তার আরেক সহযোগী। পরে স্থানীয়রা স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুল দেন।