জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “নির্বাচনে দুটি ভোট। প্রথম ভোট ‘হ্যা’-এর পক্ষে ইনআশাল্লাহ। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতবে। ‘না’ ভোট জিতলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে।
খবর প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০২ এএম

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “নির্বাচনে দুটি ভোট। প্রথম ভোট ‘হ্যা’-এর পক্ষে ইনআশাল্লাহ। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতবে। ‘না’ ভোট জিতলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে।
তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় ভোটটা দেশ গড়ার ভোট। আগামীতে যারা সরকার চালাবে তারা, যারা অতীতে ভালো মানুষ প্রমাণিত হয়েছে তারা। বারবার সুযোগ পেয়েও যারা দুর্নীতিতে বিভিন্নভাবে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল—তাদের নতুন করে আর দেখার কিছু নাই। এমনকি এখনো যারা দুর্নীতিতে লিপ্ত আছে তাদের আর নতুন করে দেখার সুযোগ নাই।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ জাতীয় নির্বাচন। এবার সাড়ে ১৪০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই নির্বাচন। এই নির্বাচন আন্দোলনে পঙ্গুত্ব বরণ করা ৩৪ হাজার আহতের নির্বাচন। এই নির্বাচন শহীদ পরিবারের হাহাকারের নির্বাচন।
আমির বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা ১১টি দল একত্রিত হয়েছি। আমরা প্রত্যেকটি দল নিজেদের সম্মান মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে নিজের দলের পক্ষে আমরা সবাই খেটে ইনআশাল্লাহ বিজয় আনব। অতীতে ৫৪ বছরে অনেক নির্বাচন হয়েছে, সরকারও গঠন হয়েছে। ভোটের আগে অনেকে অনেক ওয়াদা করেছে, কিন্তু ভোটের পর ওয়াদা ওয়াদাই থেকে গেছে। যার কারণে সমাজে বৈষম্য দেখা দিয়েছিল, অপরাধ চরম মাত্রা ধারণ করেছিল, দুর্নীতি গোটা সমাজকে ডুবিয়ে দিয়েছিল—এর বিরুদ্ধে আমাদের যুব সমাজ ফুঁসে উঠেছিল। তারা একটি মাত্র স্লোগান ‘উই মাস্ট জাস্টিস’ দিয়ে পথে নেমেছিল। তারা বলেছিল, আমরা ন্যায়বিচার চাই, বাঁচার জন্য অধিকার চাই, শিশুর জন্য শিক্ষা চাই, যুবক-যুবতীর জন্য কাজ চাই, মা-বোনদের জন্য নিরাপত্তা চাই, ব্যবসায়ীদের জন্য শান্তিতে ব্যবসা করার অধিকার চাই, শ্রমিকের জন্য ন্যায্য বিনিময় চাই, কৃষকের জন্য জমিতে ফসল ফলানোর নিরাপদ ও উন্নত সরঞ্জাম চাই। এসব চাওয়া কি তাদের অপরাধ ছিল?”
ডা. শফিকুর রহমান জেলার ৮টি আসনের দলীয় ও শরিক দলের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন। তাদের মধ্যে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হুমায়ুন কবীর, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর আহসান হাবিব মাসুদ, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে জামায়াতে ইসলামীর এ কে এম আব্দুল হামিদ, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন তালুকদার, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর শফিকুল ইসলাম খানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে এনসিপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের হাতে শাপলাকলি প্রতীক তুলে দেন।
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে এ নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলের নেতাকর্মীদের পদচারণায় জনসভাস্থল কানায় কানায় ভরে যায়।