শিব্বীর আহমেদ, জাতিসংঘ, নিউ ইয়র্ক: বিশ্বব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে গুতেরেস বলেন, বিশ্ব ক্রমেই বহুমেরুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। তার মতে, এই পরিবর্তনকে শক্তিশালী করতে হবে এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার করতে হবে, যাতে তা বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা ও ক্ষমতার ভারসাম্যকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে।
গুতেরেসের ভাষায়, বহুমেরুকেন্দ্রিকতা বৈশ্বিক শাসন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও ন্যায়সংগত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। একই সঙ্গে তিনি কার্যকর বহুপাক্ষিকতা এবং এমন একটি জাতিসংঘের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, যা সব মানুষের স্বার্থে কাজ করবে এবং কোনো দেশের ক্ষেত্রে ‘দুই ধরনের মানদণ্ড’ প্রয়োগ করবে না।
জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিয়েও গভীর উদ্বেগ উঠে আসে। তিনি মনে করেন, বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা অনেকটাই বদলে গেলেও বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগুলো এখনো পুরোনো ক্ষমতার কাঠামোর প্রতিফলন বহন করছে।
বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। গুতেরেস দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।
তার বক্তব্যে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মধ্যকার সম্পর্কও বিশেষ গুরুত্ব পায়। গুতেরেসের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন শক্তির উত্থানকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিচালিত করা জরুরি। তা না হলে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও বিভাজন আরও বাড়তে পারে। এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সংঘাত, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই বাড়ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গুতেরেসের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—বিশ্ব যখন নতুন একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বাস্তবতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকেও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, গুতেরেসের এই বক্তব্য আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আগে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের বিতর্ককে আরও জোরালো করতে পারে।


