মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ জন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা পলিমোগ্রাফ (লাই ডিটেক্টর) পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, গণমাধ্যমে ধারাবাহিক অননুমোদিত তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করতে মার্কিন তদন্তকারীরা এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
তদন্তের মাত্রা ও আওতা বিশ্লেষণ করে আইন ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা এটিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন। জয়েন্ট স্টাফ মূলত বিশ্বব্যাপী মার্কিন যুদ্ধ পরিকল্পনা ও অভিযান সমন্বয় করে থাকে; সেখানকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর এই ধরনের তদন্তের মূল উদ্দেশ্য কেবল তথ্য ফাঁসকারীকে শনাক্ত করাই নয়, বরং ভবিষ্যতে এ জাতীয় ঘটনা রোধে একটি কড়া বার্তা দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের গোপনীয় তথ্য সুরক্ষাকে ‘অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে’ দেখার কথা উল্লেখ করে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, সৈন্যদের নিরাপত্তার জন্য এসব তথ্য রক্ষা করা জরুরি।
এই পলিগ্রাফ পরীক্ষা পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও অবিশ্বাসের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যার পেছনে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের বিতর্কিত প্রশাসনিক শৈলীকে দায়ী করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে হেগসেথ ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে প্রায় ৮০ জন জেনারেল, অ্যাডমিরাল ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করেছেন। এমনকি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের করুণ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে পেন্টাগন-অর্থায়িত প্রকাশনা ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর শীর্ষ সম্পাদককে বরখাস্ত করা হয়েছে।


