ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়াল জামিরের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল ১২। সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর দেওয়া সামরিক অভিযানের নির্দেশ মানতে রাজি ছিলেন না সেনাপ্রধান জামির। এ বিষয়ে আরো আলোচনা করতে চেয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযান চালানোর আইনি অনুমোদন রয়েছে—এমন একটি লিখিত নথিতে নেতানিয়াহুর স্বাক্ষর চেয়েছিলেন জামির।
ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, তবে কী ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা বিস্তারিত জানায়নি চ্যানেলটি।
চ্যানেল ১২ এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত অভিযানটি এমন হতে পারে, যা ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরো বাড়িয়ে তুলবে।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো কয়েকজনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ইরান ইস্যুকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এর আগে আরেকটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে কাজ করতে তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বিরোধের এই খবর এমন সময় এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার আবারও নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো। তারা একসঙ্গে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে সফল হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প তার পোস্টে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী ও অর্থনীতিও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের ওপর নৌ অবরোধের কারণে দেশটি তেল পাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের দুটি স্তরই হারিয়ে গেছে। ইসরায়েলের জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু একজন দক্ষ ও সাহসী প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনে তাকে ভোট দিয়ে ইরান ইস্যুতে শুরু করা কাজ শেষ করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে রবিবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ছবিও প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। ছবিতে তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো হয়। ছবিটি প্রকাশ করে নেতানিয়াহু সতর্ক করেন, তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে ইসরায়েলিরা ‘দ্বিতীয় হলোকাস্টের’ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
পোস্টে ডানপন্থী কর্মী ইউভাল ব্লুমবার্গের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, ইসরায়েল এখন সরাসরি অস্তিত্বের হুমকির মুখে। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে আরো বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ করতে ট্রাম্পের হাতে আরো দুই বছর সময় রয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কে আসবেন, তা নিশ্চিত নয়। তাই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে দাবি করা হয়। এতে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতে পারেন—এমন একজন প্রধানমন্ত্রীকে ইসরায়েলের প্রয়োজন।
এদিকে, ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত নির্বাচনের সর্বশেষ পূর্বাভাসেও রাজনৈতিক অচলাবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন জোট কিংবা বিরোধী জোট—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।


