শিব্বীর আহমেদ, নিউ ইয়র্ক — যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবিতে একই মঞ্চে দাঁড়িয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে তিন অঞ্চলের নেতারা একটি যৌথ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে নিজেদের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এই বৈঠক যুক্তরাজ্য ভেঙে যাওয়ার কোনো ঘোষণা নয়। কোনো স্বাধীনতা বা একীভূতকরণ গণভোটের তারিখও ঘোষণা করা হয়নি। বরং যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, তিন অঞ্চলের সাংবিধানিক পরিস্থিতি এক নয় এবং প্রত্যেক জাতি নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের পদ্ধতিতে ও নিজেদের সময় অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। ফলে কার্ডিফের বৈঠককে তাৎক্ষণিক বিচ্ছেদের ঘোষণা হিসেবে নয়, বরং লন্ডনের ওপর একটি সমন্বিত রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, “আমাদের জাতিগুলোর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে” এবং জনগণই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। নেতারা যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকারকে সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

কার্ডিফের বৈঠকে স্কটল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী ও স্কটিশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা জন সুইনি, ওয়েলসের প্রথম মন্ত্রী ও প্লেইড কামরির নেতা রুন আপ আইওরওয়ার্থ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী ও সিন ফেইন নেতা মিশেল ও'নিল অংশ নেন। সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও এই উদ্যোগে যুক্ত হন। তিন অঞ্চলের রাজনৈতিক লক্ষ্য এক নয়, কিন্তু একটি বিষয়ে তাদের অবস্থান অভিন্ন—নিজ নিজ জনগণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার থাকতে হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এই সমন্বয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার দাবি বহুদিনের এবং নতুন গণভোটের প্রস্তুতি চলছে। ওয়েলসে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেও তরুণদের মধ্যে তা তুলনামূলকভাবে বেশি। আর উত্তর আয়ারল্যান্ডে মূল প্রশ্ন স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন নয়; বরং যুক্তরাজ্যের অংশ থাকা, নাকি আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে একীভূত হয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড গঠন করা। অর্থাৎ তিন অঞ্চলের গন্তব্য এক নয়—কিন্তু লন্ডনের সঙ্গে বর্তমান সাংবিধানিক সম্পর্ক নিয়ে তিন ক্ষেত্রেই প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

স্কটল্যান্ডে নতুন স্বাধীনতা গণভোটের প্রস্তুতি

তিন অঞ্চলের মধ্যে স্কটল্যান্ডই স্বাধীনতার প্রশ্নে সবচেয়ে এগিয়ে। ২০১৪ সালে দেশটিতে স্বাধীনতা নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। তখন সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু সেই পরাজয়ের পরও স্বাধীনতার দাবি রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে যায়নি। বরং ২০২৬ সালে বিষয়টি আবারও স্কটিশ রাজনীতির কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

গত ২৮ আগস্ট স্কটিশ সরকার নতুন স্বাধীনতা গণভোট বিলের খসড়া প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবিত গণভোটের প্রশ্ন হবে—“স্কটল্যান্ড কি একটি স্বাধীন দেশ হওয়া উচিত?” খসড়া আইনে গণভোটের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

তবে খসড়া বিল প্রকাশ করা মানেই গণভোট আয়োজনের আইনি ক্ষমতা পাওয়া নয়। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছিল, যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়া স্কটিশ পার্লামেন্ট একতরফাভাবে স্বাধীনতা গণভোট আয়োজনের জন্য আইন করতে পারে না। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তার সাংবিধানিক সম্পর্কের বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের সংরক্ষিত ক্ষমতার আওতায় পড়ে।

ফলে স্কটল্যান্ডের সামনে এখনো সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—গণভোটের রাজনৈতিক দাবি থাকলেও সেই ভোট আয়োজনের সাংবিধানিক ক্ষমতা কীভাবে নিশ্চিত হবে? স্কটিশ প্রথম মন্ত্রী জন সুইনি ইতোমধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে চিঠি লিখে এই রাজনৈতিক দাবিকে আইনি প্রক্রিয়ায় রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সুইনির বক্তব্য, স্কটল্যান্ডের জনগণের নিজেদের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারকে বাস্তব আইনি প্রক্রিয়ায় রূপ দেওয়া দরকার।

উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রশ্ন—ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড

উত্তর আয়ারল্যান্ডের পরিস্থিতি স্কটল্যান্ডের চেয়ে ভিন্ন এবং কিছু দিক থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রশ্নটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন নয়। মূল প্রশ্ন হলো—উত্তর আয়ারল্যান্ড কি যুক্তরাজ্যের অংশ থাকবে, নাকি আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে একীভূত হয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড গঠন করবে?

১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি (গুড ফ্রাইডে চুক্তি) এই প্রশ্নের জন্য একটি সাংবিধানিক পথ তৈরি করে রেখেছে। জনমত এমন পর্যায়ে পৌঁছালে যে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ভোট দিতে পারেন বলে মনে হয়, তখন উত্তর আয়ারল্যান্ডবিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রীর ওপর গণভোটের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব আসতে পারে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেন ম্যাকএন্টি বলেছেন, ভবিষ্যতে একটি সীমান্ত গণভোট হবে এবং যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড—দুই দেশকেই সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে তিনি গুড ফ্রাইডে চুক্তি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য

উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন গুরুত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কারণে। আয়ারল্যান্ড সফরের সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সমর্থন জানান। তিনি বলেন, তিনি উত্তর ও দক্ষিণ আয়ারল্যান্ডকে একীভূত হতে দেখতে চান এবং শেষ পর্যন্ত এমনটি ঘটবে বলে তিনি মনে করেন। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর লন্ডন অবশ্য অবস্থান পরিষ্কার করেছে—বর্তমানে উত্তর আয়ারল্যান্ডে ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে গণভোট করার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন নেই। ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানও পরিবর্তন হয়নি।

তাই ট্রাম্পের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন হিসেবে না দেখে তাঁর প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন প্রকাশ্য মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ককে অবশ্যই নতুন গুরুত্ব দিয়েছে।

ওয়েলসে স্বাধীনতার প্রশ্ন

স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের তুলনায় ওয়েলস এখনো স্বাধীনতার প্রশ্নে অনেক পিছিয়ে। তবে বিষয়টি আর প্রান্তিক রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক একটি জরিপে ১ হাজার ২৩ জন ওয়েলশ ভোটারের মতামত নেওয়া হয়। সম্ভাব্য স্বাধীনতা গণভোটের প্রশ্নে ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা স্বাধীনতার পক্ষে এবং ৬৮ শতাংশ বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। জরিপটি ১৩ থেকে ২৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

তবে বয়সভেদে চিত্রটি উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন ছিল ৫৯ শতাংশ। ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সে তা ৫৪ শতাংশ এবং ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সে ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্বাধীনতার প্রশ্নে সমর্থন সামগ্রিক জনমতের তুলনায় অনেক বেশি। এ থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যায়, ওয়েলসে স্বাধীনতার প্রশ্নটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। তবে বর্তমান জনমতে স্বাধীনতার পক্ষে এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।

লন্ডনের জন্য নতুন সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ

তিন অঞ্চলের এই সমন্বিত অবস্থান ব্রিটিশ সরকারের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকার এখনো যুক্তরাজ্যের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। সরকারের বক্তব্য, জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জনসেবার মতো বাস্তব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

কিন্তু বিরোধটি এখন আর শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্কটল্যান্ড ইতোমধ্যে নতুন স্বাধীনতা গণভোটের খসড়া প্রকাশ করেছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডে ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড নিয়ে গণভোটের একটি বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থা রয়েছে। আর ওয়েলসে স্বাধীনতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমর্থন দেখা যাচ্ছে।

ফলে প্রশ্ন এখন শুধু—“যুক্তরাজ্য কি ভেঙে যাবে?”—এমন নয়। বরং বড় প্রশ্ন হচ্ছে, কোনো একটি অঞ্চলের জনগণের একটি বড় অংশ যদি সাংবিধানিক পরিবর্তন দাবি করে, তাহলে লন্ডন কতদিন সেই দাবিকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ করতে পারবে?

সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে তিনটি আলাদা সাংবিধানিক পথ সামনে আসে। প্রথমত, উত্তর আয়ারল্যান্ড। এখানে সীমান্ত গণভোটের একটি স্বীকৃত আইনি কাঠামো ইতোমধ্যেই রয়েছে। তবে ভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও জনমতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

দ্বিতীয়ত, স্কটল্যান্ড। এখানে স্বাধীনতার পক্ষে রাজনৈতিক শক্তি অত্যন্ত সংগঠিত এবং নতুন গণভোটের খসড়া বিলও প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে বিরোধই এখনো সবচেয়ে বড় বাধা। স্কটিশ সরকার রাজনৈতিকভাবে চাপ বাড়ালেও গণভোট আয়োজনের জন্য আইনি পথ এখনো নিশ্চিত নয়।

তৃতীয়ত, ওয়েলস। এখানে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন বাড়লেও সামগ্রিক জনমত এখনো স্বাধীনতার বিপক্ষে। সাম্প্রতিক জরিপে ৩২ শতাংশ সমর্থন এবং ৬৮ শতাংশ বিরোধিতা দেখায় যে নিকট ভবিষ্যতে ওয়েলসের স্বাধীনতার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমর্থন তৈরি হয়নি। তবে তরুণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থনের মাত্রা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর সম্ভাবনা তৈরি করছে।

যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

১৪ সেপ্টেম্বরের কার্ডিফ বৈঠকের ফলে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস বা উত্তর আয়ারল্যান্ড কেউই যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যায়নি। কোনো স্বাধীনতা বা একীভূতকরণ গণভোটের তারিখও ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ অন্য কারণে। যুক্তরাজ্যের তিন অঙ্গভূমির জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্ব একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছে—তাদের জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। তারা সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সংকেত দিয়েছে।

আগামী কয়েক বছর যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। স্কটল্যান্ডে প্রশ্ন হবে—লন্ডন কি নতুন স্বাধীনতা গণভোটের জন্য আইনি পথ খুলে দেবে? উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রশ্ন হবে—ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে জনমত কি এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যাতে সীমান্ত গণভোটের দাবি আর উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে? আর ওয়েলসে প্রশ্ন হবে—স্বাধীনতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মের বাড়তে থাকা সমর্থন কি একসময় সামগ্রিক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পরিণত হবে?

আর লন্ডনের সামনে থাকবে আরও মৌলিক একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন—একটি রাষ্ট্র কি তার বিভিন্ন অংশের রাজনৈতিক ইচ্ছাকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করে একই কাঠামোয় টিকে থাকতে পারে? ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কার্ডিফ বৈঠক সেই প্রশ্নটিকেই আবার ব্রিটিশ রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। যুক্তরাজ্য আজও একক রাষ্ট্র হিসেবে অটুট। কিন্তু তার সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বাস্তব এবং রাজনৈতিকভাবে বেশি সংগঠিত।