NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
ট্রাম্পের ৯/১১ স্মরণ, $৫,০০০ ডিভিডেন্ড প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যে হামলা-সংঘাত তীব্র, বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ঝুঁকি ৯/১১ হামলার আরও নথি প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনা করবেন  ট্রাম্প সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদের, ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র গাজা থেকে ইউক্রেন-সুদান: শান্তির আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সংস্কারের পর ১৯ লাখ ডলারে বিক্রি হলো ট্রাম্পের শৈশবের বাড়ি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে একই লিমুজিনে চেপে প্রদর্শনীতে মোদি-পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কি সত্যিই আর ১৪ দিন চলার মতো তেল আছে? মার্টিনেলির হ্যাটট্রিকে আল-হিলালের জয়, অন্য ম্যাচে পয়েন্ট হারালেন রোনালদোরা
Logo
logo

মধ্যপ্রাচ্যে হামলা-সংঘাত তীব্র, বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ঝুঁকি


Shibbir Ahmed   প্রকাশিত:  ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:০৯ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে হামলা-সংঘাত তীব্র, বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ঝুঁকি

শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক — মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোতে হামলা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।

রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে আগুন ধরে গেলে জাহাজটির ক্রুদের সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। একই সময়ে ইরানের উপকূলের কাছে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত ও চারজন আহত হন।

এর আগে ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তার গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পাইপলাইনটি প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রেড সাগরের দিকে পরিবহন করে এবং হরমুজ প্রণালির বিকল্প রুট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রয়টার্স জানিয়েছে, পাইপলাইনটি দ্রুত চালু করা না গেলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পাইপলাইনটি কতদিন বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত সময়সীমা জানায়নি।

এর পাশাপাশি ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর অগ্রযাত্রায় বাব আল-মান্দাব প্রণালি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। রেড সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হুথিদের অবস্থান শক্তিশালী হলে তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক তেলবাজারে পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দামও বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ প্রতিদিন প্রায় ৫৭ লাখ ব্যারেল বা ৬ শতাংশ কমে যেতে পারে। সৌদি আরবের তেল উৎপাদনও সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়বে পরিবহন, উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপও আরও বাড়তে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি ধীর এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছু ছাড় দাবি করেছে।

হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই যখন নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে, তখন বিশ্ব জ্বালানি বাজার আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এসব রুটে দীর্ঘমেয়াদি কোনো বাধা তৈরি হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে জ্বালানির দাম, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে পারে।