Orpi Ahmed প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১০ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এসব ভাষার মধ্যে রয়েছে উর্দু, জাপানি, চীনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি, তুর্কি, নেপালি, স্প্যানিশ, অসমিয়া, রুশ ও থাই।
২০২০ সালের ৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ব্রেইল সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বইটি তখন পর্যন্ত প্রায় ১৪টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আরও কয়েকটি ভাষায় অনুবাদের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১২ সালের জুনে। একই সময়ে বইটির ইংরেজি সংস্করণ ‘দ্য আনফিনিশড মেমোয়ার্স’ (The Unfinished Memoirs) প্রকাশিত হয়। ইংরেজি অনুবাদ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে আত্মজীবনী লেখার কাজ শুরু করেন। তাঁর হাতে লেখা চারটি খাতা উদ্ধার হওয়ার পর সেগুলোর ভিত্তিতে বইটি সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়। বইটিতে বঙ্গবন্ধুর জন্ম, শৈশব, পারিবারিক পরিচয়, শিক্ষাজীবন, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ, কলকাতা ও বিহারের দাঙ্গা, দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, আওয়ামী মুসলিম লীগ ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং পাকিস্তানি শাসনামলের বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা ও তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিবরণ রয়েছে।
প্রথম দিকের বিদেশি অনুবাদের মধ্যে ছিল ইংরেজি, চীনা ও জাপানি ভাষার সংস্করণ। জাপানি সংস্করণের অনুবাদক ছিলেন জাপান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এনএইচকে) বাংলা বিভাগের কাজুহিরো ওয়াতানাবে। জাপানের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আশাহি সোতেন বইটি প্রকাশ করে। উর্দু সংস্করণের নাম ‘আধুরি ইয়াদেঁ’ (ادھوری یادیں)। পাকিস্তানের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস (Oxford University Press) থেকে ২০১৩ সালে প্রকাশিত একটি সংস্করণে অনুবাদক হিসেবে ইয়াওয়ার আমানের নাম পাওয়া যায়।
২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র আরবি সংস্করণের একটি কপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রিয়াদ এন. এ. মালকি। ফিলিস্তিন বইটি আরবি ভাষায় অনুবাদ করেছে। আরবি সংস্করণের অনুবাদক ছিলেন ফিলিস্তিনি অনুবাদক মোহাম্মদ দিবাজাহ (محمد ديباجة)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইয়েদ আবদুল্লাহ আল-মারুফ অনুবাদটি সম্পাদনা করেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে অনুবাদটি করা হয়।
২০১৭ সালে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ফরাসি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ফ্রান্সের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জিংকো এডিটর (Ginkgo Éditeur) বইটি প্রকাশ করে। ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন অধ্যাপক ফ্রান্স ভট্টাচারিয়া। ফরাসি সংস্করণটি প্যারিসের স্যালন লিভর (Salon du Livre) বইমেলায় পাওয়া যায়।
এরপর বইটির হিন্দি, স্প্যানিশ, তুর্কি, নেপালি, অসমিয়া ও রুশ ভাষার সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র স্প্যানিশ সংস্করণ উন্মোচন করেন। ওই সময়ের প্রতিবেদনে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, চীনা, জাপানি, ফরাসি, উর্দু, আরবি ও স্প্যানিশ ভাষার সংস্করণের কথা উল্লেখ করা হয়।
নেপালি সংস্করণের নাম ‘তি আধুরা সংস্মরণহারু’ (ती अधुरा संस्मरणहरु)। নেপালের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও সাবেক সার্ক মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপা এবং অধ্যাপক মহেশ পৌড়েল অনুবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০২০ সালের ৭ অক্টোবর ব্রেইল সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রায় ১৪টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আরও কয়েকটি ভাষায় অনুবাদের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের আগস্টে থাই ভাষায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র অনুবাদ প্রকাশিত হয়। থাইল্যান্ডের চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া স্টাডি সেন্টার এবং ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাস যৌথভাবে থাই সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। থাই সংস্করণ প্রকাশের সময় জানানো হয়, এর আগে বইটি ইংরেজি, উর্দু, জাপানি, চীনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি, তুর্কি, নেপালি, স্প্যানিশ, অসমিয়া ও রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া স্টাডি সেন্টারের পরিচালক সহকারী অধ্যাপক ড. জিরাইউদ সিন্থুফানের নেতৃত্বে থাই ভাষার অনুবাদক দল কাজ করে। ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট থাই সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ হিসাবে বাংলা মূল সংস্করণের সঙ্গে ইংরেজি, উর্দু, জাপানি, চীনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি, তুর্কি, নেপালি, স্প্যানিশ, অসমিয়া, রুশ ও থাই—এই ১৩টি ভাষার সংস্করণ মিলে মোট ১৪টি ভাষায় বইটির সংস্করণের তথ্য পাওয়া যায়।
পরবর্তী সময়ে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র মারাঠি সংস্করণও প্রকাশিত হয়। ২০২১ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের উদ্যোগে মারাঠি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মারাঠি সংস্করণের নাম ‘অপূর্ণ আত্মকথা’।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন তালিকায় আরও কয়েকটি ভাষার নাম পাওয়া গেলেও সেসব সংস্করণের প্রকাশকাল, প্রকাশক ও অনুবাদসংক্রান্ত তথ্য সব ক্ষেত্রে একরকম নয়।
২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইটি প্রায় ১৪টি ভাষায় অনূদিত হওয়ার কথা জানান। পরবর্তী সময়ে থাই ও মারাঠি ভাষায় নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংস্করণের সংখ্যা ও ভাষার তালিকায় পার্থক্য দেখা যায়।
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ব্রেইল সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছে। ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয় খণ্ডে প্রকাশিত ব্রেইল সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করেন।