NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬ | ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নতুন অবৈধ ইসরায়েলি বসতি নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ কিউবার সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ছাড়াল ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার কোনো আলোচনা নয়, বন্ধ হরমুজ প্রণালি: বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় হুমকি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকট আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রেসিডেন্টসহ দুই কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সবাই এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট রুশ হুমকির মুখে ইউক্রেনকে ‘শতভাগ’ সমর্থনের ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রদ্রি এখন বার্সেলোনার সড়ক-বাঁধ সুরক্ষায় বিন্না ঘাস ব্যবহারের সিদ্ধান্ত
Logo
logo

কিউবার সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা


Shibbir Ahmed   প্রকাশিত:  ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৮ এএম

কিউবার সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: কিউবার সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে কথিত ‘মার্কসবাদী নাশকতামূলক নেটওয়ার্ক’ পরিচালনা এবং দুর্নীতিপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতি ও ফ্যাক্ট শিট অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর নীতির অংশ হিসেবে ৯টি প্রতিষ্ঠান ও ৩ ব্যক্তিকে নতুন করে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। একই সময়ে কিউবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খনি, ধাতু ও নির্মাণ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘নাশকতামূলক নেটওয়ার্ক’ পরিচালনার অভিযোগ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অভিযোগ, কিউবার সরকার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে, যার উদ্দেশ্য মার্কিন নাগরিকদের চিহ্নিত করা, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা এবং উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রভাবিত করা।

বিশেষভাবে কিউবান ইনস্টিটিউট অব ফ্রেন্ডশিপ উইথ দ্য পিপলস (ICAP)-এর নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক সংহতি ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে কিউবার রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।

রুবিও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ফিদেল কাস্ত্রোর শততম জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কিউবা আন্তর্জাতিক সমর্থকদের একটি নতুন দলকে হাভানায় নিয়ে যায় এবং তাদের কিউবার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেয়। মার্কিন প্রশাসন এটিকে কিউবার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

অর্থনৈতিক খাতও নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য

নতুন পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়। কিউবার রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ—বিশেষ করে খনি, ধাতু ও নির্মাণ খাতের প্রতিষ্ঠান—মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ কিউবার ক্ষমতাসীন সরকারের কার্যক্রমে সহায়তা করে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কিউবার সরকারি অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বাড়িয়ে সরকারের অর্থের উৎস সীমিত করাই এসব পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য।

কিউবার ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিউবার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞাও সেই বৃহত্তর নীতির অংশ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কিউবা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ২০২৬ সালের আগস্টেও একাধিক নতুন পদক্ষেপ যুক্ত হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের লক্ষ্য কিউবার সাধারণ জনগণ নয়; বরং কিউবার সরকার, রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক কাঠামো এবং যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সরকারের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমকে সহায়তা করছে, তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনাও রয়েছে

তবে কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনাও রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা চলতি আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কিউবা-সংক্রান্ত নতুন নিষেধাজ্ঞার মানবিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কিউবায় চলমান অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মধ্যে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, কিউবা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধকে অন্যায্য বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। হাভানার অভিযোগ, আদর্শিক ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ওয়াশিংটন কিউবার অর্থনীতিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্কের বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।