ট্রিস্টান সেখানে পোস্ট করেন, ‘আমেরিকান সাইকো’ সিনেমার নায়কের ছবি পোস্ট করে লিখেছিল, ‘আমার খুব ইচ্ছা করছে।’ আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছিল, ‘এটা আমেরিকান সাইকোর মতো কিছু একটা হতে চলেছে, হা হা।’ অন্য একটি পোস্টে সে নারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেও মন্তব্য করে। তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি মেয়েদের ঘৃণা করি… আমি মেয়েদের/নারীদের বিশ্বাসও করি না। সে পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে যাবে… এখনই সময়।’
তদন্তে আরো জানা যায়, ট্রিস্টান একটি এআই চ্যাটবটকে জিজ্ঞেস করেছিল, খুনের জন্য হাতুড়ি নাকি ছুরি ভালো অস্ত্র। চ্যাটবটটি প্রথমে উত্তর দিতে অস্বীকার করে। পরে বলেছিল সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে বই লিখছে, তখন কিছু উত্তর পায়।
হত্যার দিন তিনি ডিকটাফোনে একটি বার্তাও রেকর্ড করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি ট্রিস্টান রবার্টস। আজ রাতে আমি অ্যালেক্স হব এবং একটি হাতুড়ি দিয়ে আমার মাকে খুন করব।’ সে কেন ‘অ্যালেক্স’ নামটি ব্যবহার করেছিল, তা স্পষ্ট নয়। মাকে হত্যা করার পরও নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করেন তিনি, ‘হে ঈশ্বর, কী ভয়ঙ্কর ছিল… কী অদ্ভুত এক অনুভূতি।’ পরে ডিসকর্ডে লেখে, ‘আজ আমার জীবনের সবচেয়ে অদ্ভুত একটা দিন গেল।’
২৪ অক্টোবর সকালে ঝোপঝাড়ের মধ্যে অ্যাঞ্জেলা শেলিসের মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে যেতে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ রক্তের দাগ দেখা যায়। পুলিশ সেখানে এক জোড়া দস্তানা ও একটি বালাক্লাভা (মুখ ঢাকার টুপি) উদ্ধার করে। শেলিসের ক্রাচও পাওয়া যায়, যা তিনি হাঁটুর আঘাতের কারণে ব্যবহার করতেন।
প্রথমে গোয়েন্দারা ভেবেছিলেন, কোনো অপরিচিত ব্যক্তি হয়তো তাকে আক্রমণ করেছে। কিন্তু পরে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভোর ৩টা ১৯ মিনিটে মা ও ছেলে একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন। পুলিশের ধারণা, রবার্টস তার মাকে প্রায় চার ঘণ্টা ঘরের মধ্যে আটকে রেখেছিল। সেখানে তার মুখে আঘাত ও শ্বাসরোধের চিহ্ন পাওয়া যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে আরো দেখা যায়, হত্যার পর ট্রিস্টান বাড়িতে ফিরে আসে এবং কিছুক্ষণ পর আবার বের হয়। পুলিশের ধারণা, সে প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য ঘটনাস্থলে ফেরার পরিকল্পনা করছিল। ট্রিস্টান ১৩ অক্টোবর ১৮ বছরে পা দেয়, অর্থাৎ হামলার মাত্র ১০ দিন আগে। পুলিশ বলছে, ১৮ বছর হওয়ায় তিনি আইনত কিছু সরঞ্জাম কিনতে পেরেছিল, যেগুলো পরে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
গ্রেপ্তারের সময় ট্রিস্টানকে খুব শান্ত দেখা যায়। তিনি পুলিশকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনারা যে মরদেহ পেয়েছেন, সেটি কি আমার মায়ের?’ পরে চার দিনে তাকে কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও সব প্রশ্নের জবাবে তিনি শুধু বলেন, ‘কিছু বলার নেই।’
রায় ঘোষণার সময় বিচারক রিস রোল্যান্ডস বলেন, ‘তুমি নিজের মাকে নিয়ন্ত্রণ করে আনন্দ পেয়েছিলে। যেভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনাটি আরো ভয়ঙ্কর কারণ, হত্যাকারী ছিল তার নিজের ছেলে, যাকে তিনি ভালোবাসতেন এবং যার জন্য দুশ্চিন্তাও করতেন।’
শেলিসের বড় ছেলে ইথান রবার্টস বলেন, ‘আমার মা সব সময়ই ট্রিস্টানকে ভালোবেসেছেন।’ তার বোন সারা গান্থার বলেন, ‘তিনি ছিলেন অসাধারণ একজন মা। জীবন যত কঠিনই হোক, তিনি কখনো হাল ছাড়েননি। সন্তানদের জন্য সব সময় লড়াই করেছেন।’
রায় ঘোষণার পর ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের অ্যান্ড্রু স্লাইট বলেন, ‘এই ভয়াবহ অপরাধের আগে ট্রিস্টান যে পরিকল্পনা করেছিল, তা ছিল খুবই বিস্তারিত। কিন্তু নিজের কাজের জন্য তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি।’