রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি ‘ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী’ শান্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে পাঁচটি শর্ত নির্ধারণ করেছে ইউক্রেন ও তার তিন প্রধান ইউরোপীয় মিত্র দেশ—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই শর্তগুলোর কথা জানান এবং ইউক্রেনের পাশে দৃঢ়ভাবে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সোমবার (৮ জুন) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ (ই-৩ গ্রুপ নামে পরিচিত) অংশ নেন।

যৌথ বিবৃতিতে যুদ্ধ অবসানের জন্য যে পাঁচটি শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবিলম্বে ও সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে; যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান অবস্থান বা ফ্রন্টলাইনকে আলোচনার শুরুর বিন্দু হিসেবে ধরতে হবে, তবে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত পরিবর্তন করা যাবে না; যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনের জন্য আইনিভাবে বাধ্যকর ও শক্তিশালী নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিশ্চিত করতে হবে, যার মধ্যে ‘মাল্টিন্যাশনাল ফোর্স-ইউক্রেন’ মোতায়েন অন্তর্ভুক্ত থাকবে; রাশিয়া যতক্ষণ না আগ্রাসন বন্ধ করছে এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ অবরুদ্ধই থাকবে; যেকোনো চুক্তিতে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। 

বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারা ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে পাঠানো জেলেনস্কির একটি খোলা চিঠির প্রশংসা করেন।

ওই চিঠিতে জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধে পুতিনকে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা রুশ প্রেসিডেন্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন। পুতিনের দাবি, রাশিয়ার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না।

 

বিবৃতিতে জেলেনস্কির সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে বলা হয়, এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোযোগ যখন ইরান যুদ্ধের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে, তখন ইউক্রেন সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ধরে রাখার ওপর জোর দেন তারা।

একই সঙ্গে ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে পূর্ণ সম্মান জানানোর দাবি করা হয়।