NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬ | ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
রক্তক্ষয়ী কঙ্গোতে শান্তির পতাকা উত্তোলনে সেনাবাহিনীর বীরত্ব মরক্কোর সঙ্গে ড্র, হতাশায় ‘হেক্সা অভিযান’ শুরু ব্রাজিলের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে এক টুকরো বাংলাদেশ! গানে গানে সৈয়দ আব্দুল হাদীকে শ্রদ্ধা, দেওয়া হলো সংবর্ধনা কক্সবাজারে আজ যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেকে ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ ইঙ্গিত দিচ্ছেন ট্রাম্প? বেলফাস্টে ঘরবন্দি ৫ হাজার বাংলাদেশি নোরা ফাতেহির সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয়, ছবিতে ছবিতে কানাডায় বিশ্বকাপের উদ্বোধন রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করলেন কোয়েল মল্লিক সেন্ট্রাল পার্কে বিশ্বকাপ উন্মাদনা, বিনামূল্যে ফাইনাল দেখাবে নিউইয়র্কবাসী
Logo
logo

ঢাকার নদী বাঁচাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রকল্প চূড়ান্ত : রিজওয়ানা


খবর   প্রকাশিত:  ২৬ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:১০ এএম

ঢাকার নদী বাঁচাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রকল্প চূড়ান্ত : রিজওয়ানা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলো রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি আগামী ডিসেম্বরে পাস হয়ে যাবে। এই প্রকল্পে পরিবেশ অধিদপ্তরের জন্য নজরদারি বাড়াতে আলাদা বরাদ্দ, জনবল এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদীতে ‘ধাঁধার চর’ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

নদীদূষণ প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘দূষণকারীদের সেন্ট্রাল ইটিপির (বর্জ্য শোধনাগার) আওতায় আনা, কিংবা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া—সব কটি বিকল্প নিয়েই কাজ করতে হবে।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের নজরদারির পাশাপাশি শিল্প মালিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু শিল্পদূষণ বললে হবে না, আমরা তো এখনো পয়ঃবর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারিনি। এসব ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে কাজ করলেই নদীগুলোকে বাঁচানো সম্ভব হবে।

’ 

 

তিনি জানান, চারজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে যতটুকু সম্ভব, ততটুকু কাজ তারা করে যাচ্ছেন। 

সেন্ট মার্টিন দখলকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পলিথিনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে, যার ফলে সুপারমার্কেটগুলোতে এখন আর পলিথিন পাওয়া যায় না।’

দৃষ্টিনন্দন ধাঁধার চর নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নে পরিবেশ উপদেষ্টা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এর ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ধাঁধার চর নিয়ে পরিকল্পনা করলে দেখা যাবে কোনো না কোনো গোষ্ঠী এটিকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে।

এটি আর ওপেন থাকবে না... তখন আর ন্যাচারাল ভিউটা থাকবে না।’

 

তিনি ধাঁধার চরকে ন্যাচারাল লার্নিং সেন্টার করার পক্ষে মত দেন, তবে সেখানে নৌপথ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে আসার সুযোগ না থাকাকে একটি সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

পরিবেশকর্মীদের সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবেশবাদীরা আমাকে সাহায্য করছেন। আমার বর্তমান দায়িত্ব থেকে আমি তাদের যেভাবে পারি সাহায্য করে যাব। আমরা একে অপরের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করব।

 

এর আগে নদীর দুঃখ, নদীর হারানো স্রোত, আর নদী বাঁচানোর প্রত্যয়—এসব নিয়েই দিনভর নদী ও পরিবেশকর্মীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই এই আয়োজনের যাত্রা শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন ঘাট থেকে একটি জাহাজ নিয়ে নদীপ্রেমীরা গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাণীগঞ্জ এলাকায় শীতলক্ষ্যা ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের মোহনায় জেগে ওঠা ধাঁধার চরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। শুরু থেকেই এই যাত্রায় অংশ নেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।

যাত্রাপথে চলে নদীর গল্প, আড্ডা, মতবিনিময় ও নদীর গান। নদী নিয়ে মুক্তচিন্তা, ছবি আঁকা এবং পরিবেশ বার্তা বিনিময়ে মুখর ছিলেন অংশগ্রহণকারীরা। যাত্রার চূড়ান্ত গন্তব্য ধাঁধার চরে পৌঁছার পর চারপাশের নদী ঘেরা সবুজ প্রকৃতি সবাইকে বিমোহিত করে। সেখানে নদী ও প্রকৃতি রক্ষায় গড়ে ওঠে সচেতনতার বার্তা ও ঐক্যের অঙ্গীকার।

এ সময় সুইডেন দূতাবাসের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিভাগের প্রধান নায়োকা মার্টিনেস বেক্সস্ট্রম, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সোলায়মান হায়দার, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মোবাশ্বেরুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন, বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির ও বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।