ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এইচ ফারূকী বলেছেন, হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘হামে শিশুমৃত্যু : জনস্বাস্থ্যসংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে ডা. ফারূকী বলেন, শিশুদের হামের টিকা ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে। হামের জটিলতা প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলদের এ মৃত্যুর দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
ডা. ফারূকী আরও বলেন, বাংলাদেশে সাধারণত ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুরা হামে বেশি আক্রান্ত হয়।
তার দাবি, টিকা ক্রয় ও মজুতে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চতুর্থ ধাপের স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর প্রোগ্রাম (এইচএনপিএসপি) ২০২৪ সালের জুনে শেষ হলেও ডিসেম্বরের পর আর টিকা খাতে অর্থ ছাড় করা হয়নি।
তিনি বলেন, পঞ্চম ধাপের কার্যক্রমের প্রস্তুতি চললেও সরকার বিকল্প ব্যবস্থা না নিয়েই তা বাতিল করে নতুন করে দুই বছরের কর্মসূচি হাতে নেয়। প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও এ খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তাই আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংগঠনের ১৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা, নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ, আক্রান্তদের সরকারি খরচে চিকিৎসা নিশ্চিত করা, গাফিলতির জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, সরকারি হাসপাতালে ‘হাম কর্নার’ চালু ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ, প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, দেশীয়ভাবে টিকা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা পর্যায়ে জনস্বাস্থ্যসেবা জোরদার, বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালু, শূন্যপদে নিয়োগ, স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি এবং বাজেটের ১৫ শতাংশ ও জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করা।


