শিব্বীর আহমেদ, নিউ ইয়র্ক : মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে সক্ষম স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি। এমন অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক বিধি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচ।
মঙ্গলবার জেনেভা থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তারা সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এখন এমন একটি বিপজ্জনক পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যেখানে যন্ত্র নিজেই মানুষকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্বাচন করতে পারে। তাদের ভাষায়, এটি একটি ‘নৈতিক সীমারেখা’ অতিক্রমের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে বিশ্বকে।
তারা বলেন, তিন বছর আগে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতা আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দ্রুত বেড়েছে এবং ঝুঁকিও আরও তীব্র হয়েছে। ফলে আগের আহ্বানকে আরও জরুরি ভিত্তিতে পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে।
মানুষের জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত যন্ত্রের হাতে নয়
স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র এমন প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রব্যবস্থা, যা মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই লক্ষ্য শনাক্ত, নির্বাচন এবং আঘাত করার মতো কাজ করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে এ ধরনের অস্ত্রের সক্ষমতা আরও বাড়ছে। জাতিসংঘ ও রেড ক্রসের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত থেকে মানুষের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ার বিষয়টি। তাদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষ ও যোদ্ধাকে সঠিকভাবে আলাদা করা অত্যন্ত জটিল। কোনো যন্ত্র ভুলভাবে একটি মানুষকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে শনাক্ত করলে তার পরিণতি হতে পারে প্রাণহানি। এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারে ভুলের জন্য কে দায়ী থাকবে, সেটিও বড় প্রশ্ন। কোনো যন্ত্র যদি নিজস্ব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রাণঘাতী হামলা চালায়, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের জন্য দায়বদ্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার
জাতিসংঘ বলছে, অস্ত্র প্রযুক্তির বিকাশ এমন গতিতে এগোচ্ছে যে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়িত ও আংশিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। জাতিসংঘ ও রেড ক্রসের মতে, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র কোনো দূরবর্তী ভবিষ্যতের বিষয় নয়। এ ধরনের অস্ত্রব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি নির্মাণে যুক্ত বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের মধ্য থেকেও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সতর্কবার্তা এসেছে।
তবে বর্তমানে মানুষের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নিশ্চিত প্রমাণ নেই। কিছু সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে। কিন্তু মানুষের জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত সরাসরি যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে।
বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তির আহ্বান
জাতিসংঘের মহাসচিব ও রেড ক্রসের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এখন আর শুধু আলোচনা চালিয়ে যাওয়া যথেষ্ট নয়। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দ্রুত আলোচনা শুরু করতে হবে।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং প্রচলিত কিছু অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর আন্তর্জাতিক কনভেনশনের অধীনে সরকারি বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় ইতোমধ্যে মানুষের বিচারবোধ ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এখন সেই অগ্রগতিকে কার্যকর আন্তর্জাতিক বিধিতে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
জাতিসংঘ ও রেড ক্রস বলছে, মানুষকে হত্যা বা বাঁচিয়ে রাখার মতো সিদ্ধান্ত মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের মতে, চলতি বছরই এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেওয়ার বছর হওয়া উচিত।
স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে ‘নৈতিক সীমারেখা’ অতিক্রমের ঝুঁকি, জরুরি বিধি চায় জাতিসংঘ ও রেড ক্রস
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০৮ এএম


আন্তর্জাতিক রিলেটেড নিউজ
পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোনের আঘাত, ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলল ভারত
৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুক্তি পেল সিরিয়া
ইসরায়েলকে মেনে নিলেই সৌদি পাবে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি : ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ, বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র করল কানাডা
হরমুজ প্রণালী থেকে সব জলমাইন সরানো হয়েছে; ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি
মস্কোতে সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফ, রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মেইল ভোটে ট্রাম্পের বিধিনিষেধে সুপ্রিম কোর্টের ছাড়

