শিব্বীর আহমেদ, জাতিসংঘ সদর দপ্তর, নিউইয়র্ক: সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধ বন্ধে চাপ বাড়াতে দেশটির পুরো ভূখণ্ডে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা দারফুরের বাইরে পুরো সুদানে কার্যকর করার পাশাপাশি ড্রোনসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের লক্ষ্য সুদানের যুদ্ধে জড়িত পক্ষগুলোর কাছে বিদেশি সামরিক সহায়তা বন্ধ করে তাদের আলোচনার টেবিলে ফিরতে চাপ সৃষ্টি করা। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বাইরের দেশগুলোর সামরিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক সহায়তা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে।

তবে প্রস্তাবটি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে। দুই দেশই নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ায় তাদের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে। চলতি আগস্ট মাসে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেনমার্কও প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। জাতিসংঘের হিসাবে সংঘাতের কারণে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দেশটির বিভিন্ন এলাকায় মানবিক পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আজকের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকেও সুদানের বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা এবং যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তিরক্ষা বিষয়ক প্রধান রোজমেরি ডিকার্লো নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করে বলেছেন, সুদানের সংঘাত আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলো এখনো সামরিক সমাধানের ওপর নির্ভর করছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি গৃহীত হলে সুদানের পুরো ভূখণ্ডে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ড্রোনের মতো আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির সরবরাহ বন্ধ করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

তবে চীন ও রাশিয়ার আপত্তির কারণে প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদে পাস করানো কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে সুদানের যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগটি এখন নিরাপত্তা পরিষদের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।