ভারতে একটি ডুপ্লেক্স পেন্টহাউসের দাম ২৭১ কোটি রুপি! অবিশ্বাস্য হলেও এটা সত্যি। সম্প্রতি শিল্পপতি মানব সারদানা দিল্লি-এনসিআরের গুরুগ্রামের একটি আল্ট্রা লাক্সারি আবাসিক প্রকল্পে ১৭ হাজার ২০০ বর্গফুটের বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স পেন্টহাউসটি কেনেন।

এটিকে ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল একক বাড়ির সম্পত্তি লেনদেন হিসেবে বিচেনা করা হচ্ছে। এটি ভারতের অন্যতম শীর্ষ আবাসন প্রতিষ্ঠান ডিএলএফের উচ্চাভিলাসী প্রকল্প ‘দ্য ডালিয়াস’-এর অন্তর্ভুক্ত। 

 

 

 

ডিএলএপেফের ফ্ল্যাগশিপ সুপার-লাক্সারি প্রকল্পটি গুরুগ্রামের ৫৪ নাম্বার সেক্টরে গলফ কোর্স রোডের পাশে অবস্থিত। পেন্টহাউসটির সুপার এরিয়া প্রায় ১৭ হাজার ২০০ বর্গফুট এবং কার্পেট এরিয়া প্রায় ১০ হাজার ৫০০ বর্গফুট।

সুপার এরিয়া ধরলে পেন্টহাউসটির প্রতি বর্গফুটের দাম পড়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ রুপি, আর কার্পেট এরিয়ার হিসেবে প্রতি বর্গফুটের দাম  প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা রুপি। এই বিক্রয় চুক্তিটি গুরুগ্রামে বিলাসবহুল বাড়ির আকাশছোঁয়া দামকে তুলে ধরেছে। বর্তমানে উচ্চবিত্ত বিনিয়োগকারীদের কাছে এই ধরনের হাই-এন্ড অ্যাপার্টমেন্ট এবং পেন্টহাউসগুলোর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

 

 

 

২৭১ কোটি রুপিতে পেন্টহাউস কিনে আলোচনায় এলেও মানব সারদানা একজন পরিচিত উদ্যোক্তা এবং দিল্লির ঐতিহ্যবাহী সারদানা পরিবারের সদস্য।

এই ব্যবসায়ী পরিবারের ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৬৯ সালে মানবের বাবা এসবি সারদানা এবং জগজিৎ সিং মিলে যৌথভাবে 'ইম্পেরিয়াল অটো ইন্ডাস্ট্রিজ' নামের একটি অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা তাদের ভারতজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়। মানব সারদানা ইম্পেরিয়াল অটো গ্রুপের সাথে যুক্ত এক ডজনেরও বেশি কোম্পানিতে পরিচালক  হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

 

২০২৪ সালের অক্টোবরে গুরুগ্রামের ডিএলএফ ফেজ ৫-এর আওতায় ১৭ একর জায়গার ওপর একটি সুপার-লাক্সারি আবাসন প্রকল্প হিসেবে ‘দ্য ডালিয়াস’ শুরু করে। বর্তমানে এটির নির্মাণকাজ চলছে।

২০২৯ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রকল্পের ফ্ল্যাট এবং পেন্টহাউস হস্তান্তর শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে ১৫টি পেন্টহাউসসহ ৪২০টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। প্রকল্পের প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টের দাম ১০০ কোটি থেকে ১৭০ কোটি রুপির মধ্যে। পেন্টহাউসগুলো আয়তনে অনেক বড় এবং প্রিমিয়াম লোকেশনে হওয়ায় এগুলোর দাম আরও অনেক বেশি। ডিএলএফ এই প্রকল্প থেকে ৪০ হাজার কোটি রুপিরও বেশি রাজস্ব আয়ের আশা করছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৬৫ ভাগেরও বেশি ইউনিট বিক্রি হয়ে গেছে।

 

 

 

ভারতের বিলাসবহুল আবাসনের মানচিত্রে গুরুগ্রামকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ‘দ্য ডালিয়াস’-ই ডিএলএফের প্রথম আল্ট্রা-লাক্সারি প্রকল্প নয়। এর আগের প্রকল্প ‘দ্য ক্যামেলিয়াস’ গলফ কোর্স রোড এলাকাটিকে দেশের অন্যতম একচেটিয়া বা অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছিল। করোনা মহামারির পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রধান প্রধান আবাসন বাজারগুলোতে বিলাসবহুল বাড়ির ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গুরুগ্রাম এবং মুম্বাইতে বেশ কিছু উচ্চ-মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট এবং পেন্টহাউস লেনদেন হয়েছে। কারণ ধনী ক্রেতারা এখন দিন দিন আরও বড় এবং অনন্য বাড়ির খোঁজ করছেন। ভারতের অন্যতম বৃহত্তম আবাসন প্রতিষ্ঠান ডিএলএফ এ পর্যন্ত ১৮৫টিরও বেশি প্রকল্প তৈরি করেছে।

ডিএলএফের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘দ্য ডালিয়াস’-এর পেন্টহাউসগুলোতে সাধারণ বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের চেয়ে অনেক বেশি প্রিমিয়াম ও অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। ‘দ্য ডালিয়াস’-এ ১৭ একর জায়গায় ২৯ তলা বিশিষ্ট টাওয়ার থাকছে। প্রতিটি টাওয়ারের ২৮ ও ২৯ তলা নিয়ে মোট ১৫টি পেন্টহাউস বানানো হচ্ছ। পেন্টহাউসগুলো মূলত বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স  ফরম্যাটে তৈরি। সাধারণ ফ্ল্যাটের তুলনায় এগুলোর ছাদের উচ্চতা অনেক বেশি (প্রায় ১৩ ফুট), যা ঘরের ভেতর একটি রাজকীয় ও খোলামেলা পরিবেশ তৈরি করে।

 

 

প্রকল্পের বাসিন্দাদের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ বর্গফুটের একটি বিশাল ক্লাবহাউস থাকরছ; যেখানে ফাইন ডাইনিং রেস্তোরাঁ, রুফটপ বার, স্কাই লাউঞ্জ এবং ক্যাফে সুবিধা অন্তর্ভুক্ত। পেন্টহাউসগুলো থেকে আরাবল্লী পাহাড় এবং সংলগ্ন গলফ কোর্সের চমৎকার প্যানোরমিক ভিউ দেখা যাবে। এছাড়া পুরো আবাসনটি বিশাল কৃত্রিম হ্রদ ও সবুজ ল্যান্ডস্কেপ দিয়ে ঘেরা। সর্বোচ্চ প্রাইভেসি নিশ্চিত করতে প্রতিটি পেন্টহাউসের সাথে রয়েছে প্রাইভেট লিফটের লবি। এছাড়া রয়েছে নিজস্ব ইনফিনিটি পুল ও বিশাল খোলা টেরেস। পেন্টহাউসগুলোতে অত্যাধুনিক স্মার্ট হোম টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে। 

এ ছাড়া বিনোদনের জন্য রয়েছে প্রাইভেট সিনেমা থিয়েটার ও মিউজিক পড। আবাসনটিতে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও সুরক্ষার জন্য পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা এবং সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি রয়েছে। এছাড়া অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানের জিমনেশিয়াম, লাক্সারি স্পা, সাউনা, যোগব্যায়াম ডেক এবং জগিং ট্র্যাকের সুবিধা রয়েছে ‘দ্য ডালিয়াস’-এ।