বহুজাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘শেভরন’-এর চেয়ারম্যান ও সিইও মাইক ওয়ার্থের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স বিজনেস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশাসনের অবদানকে স্বীকৃতি না দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

একই সাথে মার্কিনদের স্বস্তি দিতে তেল কম্পানিগুলোকে অবিলম্বে খুচরা জ্বালানির দাম কমানোরও নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসন না থাকলে তেল শিল্প ধ্বংস হয়ে যেত। তার মেধা, দূরদর্শিতা ও কঠোর নীতির কারণেই মার্কিন জ্বালানি খাত বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে। অথচ শেভরন সিইও মাইক ওয়ার্থ সাক্ষাৎকারে কম্পানির সাফল্যের কারণগুলো ব্যাখ্যা করলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সেই ভূমিকার কথা ভুলে গেছেন।

এ ছাড়া ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তার প্রশাসনের কড়া পররাষ্ট্রনীতি ও চাপের কারণেই শেভরন সেখানে আবারও কার্যক্রম প্রসারিত করতে পেরেছে এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।

 

অন্যদিকে সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের বর্তমান অস্থিতিশীলতার বিষয়টি তুলে ধরেন শেভরন সিইও মাইক ওয়ার্থ। তিনি বলেন, ইরান সংঘাত, লোহিত সাগরে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যার বড় একটি অংশ আটকে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

 

ভূ-রাজনৈতিক এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মার্কিন বাজারেও। আন্তর্জাতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়ে জাতীয় গড় মূল্য প্রতি গ্যালন ৫.১০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা সংঘাত শুরুর তুলনায় ১ ডলারের চেয়েও বেশি।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন সাধারণ মানুষের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন, সংঘাত শেষ হলে ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে জ্বালানির দাম অনেকটাই নেমে আসবে। তবে অর্থনীতিবিদরা এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে বৈশ্বিক যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিণতির বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।