মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো তাৎক্ষণিক লক্ষণ নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট দুজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে যে ইরানের ক্ষমতাসীন সরকার এখনো ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং অচিরেই পতনের ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
যুদ্ধের সময়কার বোমা হামলায় ইরানের বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুদ্ধের লক্ষ্য সীমিত করে ব্যাখ্যা করেছেন। তারা বলছেন, মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক ও নৌ সক্ষমতাকে দুর্বল করা। সরকারের পতন হলে তা যুদ্ধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, কিন্তু সেটিই প্রধান লক্ষ্য নয়।
তবে যুদ্ধ শুরু করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প তেহরানে প্রায় ৫০ বছর ধরে থাকা ‘সন্ত্রাসী সরকার’-এর কথাও উল্লেখ করেছেন। সংঘাতের প্রথম দিনেই তিনি ইরানের জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এরপর থেকে ট্রাম্প ইরানের কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করে আসছেন এবং বলেছেন, হামলা বন্ধ করার আগে এই আত্মসমর্পণ প্রয়োজন। তবে তার সহযোগীরা জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণের ঘোষণা ইরানের সরকার নয়, বরং ট্রাম্প নিজেই দেবেন।


