বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে আগুন লাগার ঘটনায় বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতি সরকারের প্রাথমিক বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিএনএনের হাতে আসা নতুন ভিডিওতে এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত মার্চে, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত চলছিল। তবে তখন যুক্তরাষ্ট্র সরকার আগুন লাগার ঘটনাটিকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছিল।
নতুন ভিডিওতে দেখা যায়, রণতরির ভেতরের নাবিকদের থাকার জায়গা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শোয়ার খাটগুলো পুড়ে কালো হয়ে গেছে এবং অনেক জায়গায় বাঁকানো ধাতব কাঠামোয় পরিণত হয়েছে।
ছাদ ও উপরের অংশ আগুনে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ভিডিওতে দেখা যায়। ছাদের ভেতর থেকে খোলা তার ঝুলতে দেখা গেছে এবং পুরো এলাকায় ছাই ও পোড়া ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাহাজে থাকা এক নাবিক জানান, আগুন নেভানোর সময় তারা সত্যিই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন যে পুরো রণতরিটি হারিয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই মনে করেছিলাম আমরা জাহাজটি হারাতে যাচ্ছি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে, ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে এবং পুনরায় আগুন লাগা ঠেকাতে জাহাজের কর্মীদের প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল।
এই ঘটনায় প্রায় ৬০০ নাবিক তাদের থাকার জায়গা ব্যবহার করতে পারেননি বলে জানা গেছে। এতে জাহাজের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা ওই বিমানবাহী রণতরিতে হামলা চালিয়েছিল। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।


