নিউইয়র্ক সিটি ও অঙ্গরাজ্যের রাজধানী অলবানির মধ্যে অ্যামট্রাকের পূর্ণ ট্রেন চলাচল আগামী মার্চের শুরুতেই পুনরায় চালু হচ্ছে। এর ফলে গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনাল থেকে অলবানি পর্যন্ত মেট্রো–নর্থ ট্রেন চালুর যে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।
অ্যামট্রাক তাদের এম্পায়ার সার্ভিস লাইনের বন্ধ থাকা তিনটি দৈনিক যাত্রা পুনরায় চালু করতে সম্মত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত বছরের বসন্তে ইস্ট রিভার টানেলের চারটি টিউবের একটি সংস্কারকাজের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হলে নিউইয়র্ক পেন স্টেশন ও অলবানির মধ্যকার ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে সপ্তাহের কর্মদিবসে তিনটি রাউন্ড ট্রিপ বাতিল করা হয়।
এই সংকট কাটাতে কিছুদিন আগে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ঘোষণা দিয়েছিলেন, একটি অ্যামট্রাক ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি বসন্তে গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনাল থেকে অলবানি পর্যন্ত একটি মেট্রো–নর্থ ট্রেন চালু করা হবে। বাস্তবায়িত হলে এটি হতো ১৯৬৭ সালের পর প্রথম মেট্রো–নর্থ সংযোগ।
তবে মঙ্গলবার গভর্নর হোকুল জানান, তিনি অ্যামট্রাকের কাছ থেকে মার্চের মধ্যেই পূর্ণ ট্রেন সেবা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “নিউইয়র্ক পেন স্টেশন থেকে অলবানি–রেনসেলার পর্যন্ত সব স্থগিত ও একত্র করা এম্পায়ার সার্ভিস ট্রেন পুনরায় চালু করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে যাত্রীদের যেন অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি তাঁর কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
পূর্ণ সেবা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের পর অ্যামট্রাক নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সরকার ও এমটিএকে জানিয়েছে, অস্থায়ীভাবে মেট্রো–নর্থ ট্রেন অলবানি পর্যন্ত চালুর অনুমোদন আর দেওয়া হবে না। ফলে সেই পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে যায়।
তবে গভর্নর হোকুল জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাত্রীচাহিদা তৈরি হলে পাফকিপসির উত্তরাঞ্চলে—হাডসন ভ্যালি ও ক্যাপিটাল রিজিয়নে—মেট্রো–নর্থ সেবা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে।
বর্তমানে এম্পায়ার সার্ভিস নিউইয়র্ক সিটি থেকে পাফকিপসি পর্যন্ত মেট্রো–নর্থের হাডসন লাইনের রেলপথ ব্যবহার করে। পাফকিপসির উত্তরে অলবানি হয়ে নাইয়াগ্রা ফলস পর্যন্ত রেলপথের মালিকানা রয়েছে মালবাহী রেল সংস্থা সিএসএক্সের হাতে, যেখানে অ্যামট্রাক চলাচলের অনুমতি পেয়ে থাকে।
ইস্ট রিভার টানেলের সংস্কারকাজ চলমান থাকলেও কীভাবে পূর্ণ ট্রেন চলাচল সম্ভব হচ্ছে, সে বিষয়ে অ্যামট্রাক কর্তৃপক্ষ মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।


