জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনজোয়ার এভাবে আটকানো যাবে না। আজকে মায়েরা তাদের ইজ্জতের ওয়ারেন্টি হিসেবে তারা মনে করেন আমরা যারা এগারো দল, এখানেই তারা নিরাপদ। এ কথা তো আমার নয়, আমার মায়েদের। এখন মায়েরা এ কথা বলেন কেন এটা তাদের দোষ!
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা চট্টগ্রাম বন্দর হাই স্কুল মাঠে নগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, জুলাইকে যারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিল, জুলাইকে যারা স্বীকৃতি দেয়নি তাদের তরুণ সমাজ ইতিমধ্যে একটা বার্তা দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এ তরুণ ছাত্র সমাজ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ, স্ট্যান্ড দখলকারী এবং নারীদের ইজ্জত হরণকারীতে তারা লালকার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। এরপর নির্বাচনগুলো ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে ভয়ে।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ যুব সমাজ কারো কাছে গিয়ে ভিক্ষা চায়নি।
ডা. শফিকুর বলেন, এই বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। এই জন্মভূমির প্রতি ইঞ্চি মাটির পাহারাদারি করা আমাদের দায়িত্ব। এর আধা ইঞ্চি মাটিও আমরা কাউকে দেব না। জুলাইযোদ্ধারা বলেছিল, জীবন দেব, জুলাই দেব না। আমরা তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলতেছি, জীবন দেব, মাটি দেব না।
জামায়াতের আমির বলেন, আমি জায়ামাতে ইসলামীর বিজয় চাই না, এদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি যেদিন আসবে, সেদিন আমাদের কাজের সফলতা। সবাইকে মুক্তির মিছিলে থাকার ওয়াদা করিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন এবং হ্যাঁ ভোট এবং ১১ দলের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি ‘না’ ভোট থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটে আসার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন— ঠ্যালার নাম বাবাজি। ঠ্যালা খেয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে আসছে।
জামায়াতের নগর আমির নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম, মোহাম্মদ শাহজাহান, আহছান উল্লাহ এনসিপির মাহমুদা মিতু, জোবাইরুল আরিফসহ ১১ দলে নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন আসনের জামায়াতসহ ১১ দলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এর আগে দিনি লোহাগাড়া ও সীতাকুণ্ডে সমাবেশে বক্তব্য দেন। সেখানেও দক্ষিণ ও উত্তর জেলার প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। চট্টগ্রাম আসার আগে তিনি কক্সবাজারে দুটি সমাবেশে বক্তব্য দেন।


