যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বুধবার ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারি আরো শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা। দুই দেশের মানুষের স্বার্থে সহযোগিতা আরো বাড়াতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন। ফোনালাপে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন মোদি ও ট্রাম্প। বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার চলমান উদ্যোগ নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
এদিকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের জন্য লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, চুক্তির বিষয়ে দুই দেশ এখন সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ধারা ৩০১-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র অন্যায্য মনে করা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের তদন্ত করতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্কসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। এদিকে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসংক্রান্ত মার্কিন আইনের বিষয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন কংগ্রেসে আইনটি পাস হওয়ার পর ভারত এ উদ্বেগের কথা জানায়। এই আইনের আওতায় রাশিয়া ও দেশটির প্রধান জ্বালানি ক্রেতাদের ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ পাবে ট্রাম্প প্রশাসন। এসব ক্রেতার মধ্যে ভারত ও চীনও রয়েছে।
আইনটি পাস হওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারত কাজ করবে বলেও জানানো হয়। মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, এ বিষয়ে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এসব সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও ভারতের উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত। এসব পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকার কাজ করবে বলেও জানানো হয়। এরই মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসংক্রান্ত আইন নিয়ে ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন তিনি। মিশ্রি জানান, নতুন আইনের প্রভাব শুধু ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়েও মার্কিন প্রতিনিধিদলের কাছে ভারতের উদ্বেগ জানানো হয়েছে।


