শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বলেছে, মার্কিন নাগরিক, সামরিক সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের সম্ভাব্য বিচারিক পদক্ষেপ ঠেকাতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসি এবং আদালতের সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের সমাধান না করলে আদালটির কার্যক্রম সীমিত করা ও ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির রোম সংবিধির সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ার মার্কিন নাগরিকদের ওপর প্রয়োগের বিরোধিতা করে। প্রশাসনের দাবি, আইসিসি মার্কিন সামরিক সদস্য, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত নেতাদের বিচার করার ক্ষমতা দাবি করতে পারে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আইসিসির সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করা এবং আদালটির আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আদালতের সদস্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিরসনে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আইসিসির কাছে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা জানানো হলেও আদালত কিংবা এর সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে নির্বাহী আদেশ ১৪২০৩-এর আওতায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তরের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের প্রকাশিত তথ্যেও আইসিসি-সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচির আওতায় নতুন পদক্ষেপের উল্লেখ রয়েছে। ৯ অক্টোবরের সরকারি তথ্যপত্রে আদালতের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনের অনুমতি দিতে সাধারণ লাইসেন্স জারির কথাও বলা হয়েছে।

আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আগ্রাসনের অপরাধের জন্য ব্যক্তিদের বিচার করার আন্তর্জাতিক আদালত। আদালতটি নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্র রোম সংবিধির সদস্য না হলেও আদালটির এখতিয়ার ও কার্যক্রম নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর উচিত আইসিসির কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়া এবং আদালটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল না হলে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য পদক্ষেপের পরিধি আরও সমন্বয় করতে পারে।

অন্যদিকে, আইসিসি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আদালতের বিচারক ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে এ ধরনের পদক্ষেপ বিচারিক স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আদালত জানিয়েছে, গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের ফলে আইসিসির সঙ্গে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক, আদালতের কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা নিয়ে কূটনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।