NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬ | ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
জুয়া-মাদক-প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর আইন, বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় চুক্তি মানতে ব্যর্থ হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ট্রেলিয়ায় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ব্রিটিশ অভিনেত্রী গ্রেপ্তার জি-৭ সম্মেলনে মেলোনির ঠোঁটে চুম্বনের চেষ্টা জেলেনস্কির, ভিডিও ভাইরাল বিশ্বকাপে ছেলের খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন ভোজিনহার মা মানবিক সহায়তা জোরদার ও নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের পরীর বাসায় টানা ১ মাস রাত যাপন সাকলায়েনের! শুক্রবারের মধ্যেই শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ হবে : জেডি ভ্যান্স ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের ভিডিও প্রকাশ করলেন ম্যাক্রোঁ মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে অনন্য রেকর্ড গড়লেন হ্যারি কেইন
Logo
logo

পরকীয়ার কারণে মিতুকে হত্যা করে বাবুল : আদালতে মিতুর বাবা


খবর   প্রকাশিত:  ০৯ জানুয়ারী, ২০২৪, ১২:৫১ পিএম

পরকীয়ার কারণে মিতুকে হত্যা করে বাবুল : আদালতে মিতুর বাবা

পরকীয়ার কারণে সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার ও তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ লেগেই ছিল। বিষয়টি নিয়ে চরম আকার ধারণ করলে মিতু কয়েকবার বাবার বাড়িতে চলে যেতে চেয়েছিলেন এবং একবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। কলহপূর্ণ দাম্পত্য জীবনের একপর্যায়ে স্ত্রী মিতুকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে খুন করান বাবুল আক্তার। নাটক সাজাতে হত্যাকাণ্ডের দিন নিজে অবস্থান করেন ঢাকায়।

নিজের মেয়ে মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে দায়ের হওয়া মামলায় আদালতে দেওয়া সাক্ষীতে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন এমন তথ্য জানান। 

রোববার (৯ এপ্রিল) তৃতীয় চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জসিম উদ্দিনের আদালতে তিনি আংশিক সাক্ষ্য দেন। মামলার পরের ধার্য তারিখে তিনি বাকি সাক্ষ্য দেবেন। ওইদিন ভিনদেশি নারী গায়ত্রী ছাড়াও বাবুল আক্তারের একাধিক প্রেমের সম্পর্কের তথ্য আদালতকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ।

তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আলোচিত মামলাটির বাদী ছিলেন বাবুল আক্তার। তবে তিনি প্রধান আসামি হওয়ায় বাদী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোশাররফ হোসেন। তিনি বিরতি দিয়ে দুই দফা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার মূল কথা হলো- বাবুল আক্তার নিজে তার স্ত্রীকে হত্যার যাবতীয় পরিকল্পনা করেছে। ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ঠিক করে তিনি ঢাকায় অবস্থান করে স্ত্রীকে হত্যা করিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ পরকীয়া। মিতুর বাবা আজকে একজন নারীর প্রেমের কথা বলেছেন। তার সাক্ষ্য বাকি আছে। বাবুলের জীবনে একাধিক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সেগুলো মিতুর বাবার পরবর্তী সাক্ষ্যতে উঠে আসবে। 

dhakapost

পরকীয়ার কারণে হত্যাকাণ্ডের আগে থেকে মিতুর সঙ্গে বাবুল আক্তারের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কলহ লেগেই ছিল। বিষয়টি নিয়ে মিতু অনেকবার বাসা থেকে চলে যেতে চেয়েছিলেন। একবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে কলহের সঙ্গে চরম আকার ধারণ করে। এ নিয়ে বাবুল আক্তার মিতুকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

এদিন বাবুল আক্তারের পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট গোলাম মওলা মুরাদ। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, চার্জ গঠনের বিষয়ে আমরা উচ্চ আদালতে রিভিশন করেছি। আদালতকে আমরা বিষয়টি অবহিত করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য স্থগিত রাখার আবেদন করি। কিন্তু আদালত আবেদন নাকচ করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে। 

তিনি আরও বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের পর তার বাবা মোশাররফ প্রথমে গোয়েন্দা পুলিশকে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে কিছুই বলেননি। এখন নতুন নতুন কথা বলছেন। এটি কারও শেখানো কথা কি না বুঝতে পারছি না।

আজ (রোববার) মিতু হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। মামলাটির সাত আসামির মধ্যে বাবুল আক্তার, মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন ও শাহজাহান মিয়াসহ চারজন কারাগারে রয়েছেন। তাদের আদালতে হাজির করা হয়। আরেক আসামি এহতেশামুল হক ভোলা জামিনে রয়েছেন। তিনিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাকি দুই আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা ও খায়রুল ইসলাম ওরফে কালু মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

এদিকে রোববার সাক্ষ্যগ্রহণের শুরুতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি আবেদন করার কথা জানিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য সময় চান। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করার দাবি জানান। শুনানি শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আদেশ দেন। এরপর বিরতি দিয়ে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের দুই দফা সাক্ষী নেওয়া হয়।

এর আগে গত ১৩ মার্চ আলোচিত মামলাটিতে বাবুল আক্তারসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরের নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ওই সময় ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। ঘটনার সময় মিতুর স্বামী পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার অবস্থান করছিলেন ঢাকায়। ঘটনার পর চট্টগ্রামে ফিরে তৎকালীন পুলিশ সুপার ও মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।