NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬ | ৩ কার্তিক ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
জাতিসংঘ জীববৈচিত্র্য সম্মেলন: ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জবাবদিহিতার মুখোমুখি বিশ্বনেতারা শিক্ষার্থীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর দুই আবেদন ফ্রান্সে বিক্ষোভে সহিংসতা : পর্যটন দপ্তরে আগুন, গ্রেপ্তার ১৬০ জনের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল মাঠে ট্রাক ঢুকে শিশুসহ নিহত ২ সেই ফেক ভিডিও নিয়ে এবার ক্ষোভ ঝাড়লেন পরীমনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে ৫৪০ দিনের সুবিধা বাতিল নিশ্চিন্তে, নিরাপদে উৎসব উদযাপন করুন : প্রধানমন্ত্রী রাশিয়াকে তহবিল জোগাতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ জেলেনস্কির বিতর্কের জেরে প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প মেসির ইন্টার মায়ামির সামনে আটলান্টা ইউনাইটেডের চ্যালেঞ্জ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষা
Logo
logo

জাতিসংঘ জীববৈচিত্র্য সম্মেলন: ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জবাবদিহিতার মুখোমুখি বিশ্বনেতারা


Shibbir Ahmed   প্রকাশিত:  ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

জাতিসংঘ জীববৈচিত্র্য সম্মেলন: ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জবাবদিহিতার মুখোমুখি বিশ্বনেতারা

শিব্বীর আহমেদ, নিউ ইয়র্ক  : আগামীকাল সোমবার থেকে আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক জীববৈচিত্র্য সম্মেলন বা কপ১৭। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ধারা রুখে দিতে বৈশ্বিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়নে এই সম্মেলনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—পরিবেশ রক্ষায় নেওয়া বৈশ্বিক লক্ষ্যগুলো অর্জনে দেশগুলো আসলে কতটুকু কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখা।  জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইতিপূর্বে প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের এই আত্মঘাতী ‘যুদ্ধ’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইয়েরেভান সম্মেলনকে বিশ্বনেতাদের জন্য এক ‘জবাবদিহিতার মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

২০২২ সালে স্বাক্ষরিত ‘কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক’ বা প্রকৃতি রক্ষার বৈশ্বিক ব্লুপ্রিন্টের মূল লক্ষ্য হলো: ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অন্তত ৩০ শতাংশ স্থল ও জলভাগ সংরক্ষণ করা, যা পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় ‘৩০ বাই ৩০’ লক্ষ্য নামে পরিচিত। এই মহাপরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তন রোধ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিকারক প্রণোদনা সংস্কার এবং পরিবেশ খাতে প্রতি বছর অন্তত ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

তবে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, পরিবেশ রক্ষায় বৈশ্বিক অগ্রগতির গতি এখনও অনেক ধীর। কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির ১৯৬টি সদস্য দেশের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ দেশ তাদের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও, মূল্যায়নে দেখা গেছে যে অর্ধেকেরও কম দেশের কার্যক্রম সঠিক ট্র্যাকে রয়েছে। বিশেষ করে অর্থায়ন, কারিগরি সক্ষমতা এবং ডেটা ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ঘাটতি রয়ে গেছে।

আর্মেনিয়ার জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত পারুয়ার হোভহানিসিয়ান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এবারের কপ১৭ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের রূপ দেওয়া। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অন্তত ৩০ বিলিয়ন ডলারসহ মোট ২০০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক বৈশ্বিক তহবিল নিশ্চিত করা এবং জেনেটিক সম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহারের সুবিধা সমতার ভিত্তিতে বণ্টনের জন্য ‘ক্যালি ফান্ড’ কার্যকর করার বিষয়ে ইয়েরেভানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।

সম্মেলনের ইনকামিং প্রেসিডেন্ট ও আর্মেনিয়ার পরিবেশ মন্ত্রী হাম্বারদজুম মাতেভোসিয়ান বলেন, কপ১৫-এ চুক্তি তৈরি হয়েছিল এবং কপ১৬-এ তা বাস্তবায়নের মেকানিজম নিয়ে কাজ হয়েছে। আর কপ১৭-এর মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ব এখন কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, কোথায় ঘাটতি আছে এবং দ্রুত ফলাফল পেতে কী কী পরিবর্তন দরকার তা সুনির্দিষ্ট করা।

কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির নির্বাহী সম্পাদক অ্যাস্ট্রিড শমেকার বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমরা জানি আমাদের ঘাটতিগুলো কোথায়। এখন আমাদের আর সময় নষ্ট না করে একসাথে কাজ করে এই ঘাটতিগুলো পূরণ করতে হবে।’