NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬ | ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশ-জাপান চারটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি অনুদান চুক্তি সই উন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে বেড়েই চলছে প্রাণহানি নির্বাচনে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর ‘কারচুপির’ অভিযোগ অর্থ আত্মসাতের মামলায় গায়ক ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার ‘ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাব’, তারেক রহমানকে নিয়ে এক্স পোস্টে যা বললেন তাকাইচি নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্পের নতুন কৌশল ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর ভারতকে চাপ দিতে বলল পোল্যান্ড ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে, চলছে নানা জল্পনা ‘কিং’-এর পোস্টারে প্রেমিক রূপে শাহরুখ
Logo
logo

টিভির অভিজ্ঞতায় বিমান কন্ট্রোল করেছিলেন প্লাম্বার, বীরত্ব দেখান ডেন্টিস্ট


খবর   প্রকাশিত:  ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ এএম

টিভির অভিজ্ঞতায় বিমান কন্ট্রোল করেছিলেন প্লাম্বার, বীরত্ব দেখান ডেন্টিস্ট

চলন্ত বিমানের ককপিটে যখন জখম পাইলট রক্তের সাগরে ভাসছেন, আর তার সহ-পাইলট পুরো বিমানকে ভূপাতিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তখনই সবার সঙ্গে সামনে এগিয়ে আসেন সাধারণ দুই যাত্রী। তাদের বীরত্বেই রক্ষা পায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

 

 

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঝআকাশের সেই নিশ্চিত মৃত্যুপুরী থেকে সবাইকে ফিরিয়ে আনার নেপথ্যে পাইলট স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে ছিলেন এক পেশাদার ‘প্লাম্বার’ (পাইপমিস্ত্রি) এবং এক ‘ডেন্টিস্ট’। একজন সাধারণ টিভি অনুষ্ঠান দেখে শেখা টেকনিকে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন, অন্যজন হেডফোনের তার দিয়ে বেঁধে কাবু করেছেন হামলাকারী পাইলটকে! 

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর ফ্লাইটে ঘটা এই অবিশ্বাস্য ঘটনার লোমহর্ষক বিবরণ উঠে এসেছে সেই দুই সাধারণ বীরের জবানিতে।

আক্রমণকারী ওমানি সহকারী পাইলট যখন মূল ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরি মেরে বিমানটিকে মাত্র ৩০ সেকেন্ডে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নামিয়ে আনেন, তখন বাইরে থেকে ককপিট খোলার আকুল চেষ্টা করছিলেন যাত্রীরা। প্লাম্বার পেশার ইয়ানিভ হায়ুন জানান, মারাত্মক জখম হওয়া ক্যাপ্টেন স্মিত ভেতরের মেঝেতে পড়ে থেকেও অলৌকিকভাবে ডোর রিলিজ বোতামটি চেপে ধরেছিলেন।

 

 

দরজা খুলতেই ভেতরে ঢোকেন হায়ুন। ককপিটের ভেতরের নরকতুল্য দৃশ্য দেখেও ভয় পাননি তিনি। হায়ুন বলেন, ‘আমরা যখন ভেতরে ঢুকি, তখন হামলাকারীর সঙ্গে চরম ধস্তাধস্তি চলছিল। আমি একলাফে ককপিটের একদম সামনে চলে যাই এবং দুই হাতে মূল কন্ট্রোল হ্যান্ডেল (ইয়োক) শক্ত করে ধরে পেছনের দিকে টানতে শুরু করি—ঠিক যেভাবে টেলিভিশনের বিভিন্ন নাটকে পাইলটদের বিমান টেনে তুলতে দেখেছি।

’ 

 

পেশায় মেকানিক বা প্লাম্বার হলেও তার ওই এক মুহূর্তের উপস্থিত বুদ্ধিতেই খাড়া নিচের দিকে নামতে থাকা বিমানটি সমতায় আসতে শুরু করে।

একই সময়ে ককপিটে জীবন বাজি রেখে ছুটে যান বিমানে থাকা দন্ত চিকিৎসক শোতা মুসায়েভ। তিনি দেখেন, সহ-পাইলট রক্তে ভেজা ক্যাপ্টেনের ওপর চড়ে বসে তখনও তাকে ছুরিকাঘাত করে চলেছে।

মুসায়েভ বলেন, ‘ক্যাপ্টেনের মাথা ও হাত এমনভাবে জখম হয়েছিল যে মনে হচ্ছিল হাত দুটো প্রায় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চারদিকে শুধু রক্ত আর রক্ত।

আর কয়েক মুহূর্ত দেরি হলে রক্তচাপ শূন্যে নেমে ক্যাপ্টেন মারা যেতেন।’

 

মুসায়েভ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে অন্য যাত্রীদের সাহায্যে হামলাকারীকে নিচে ফেলে চেপে ধরেন। ককপিটে বাঁধাইয়ের মতো দড়ি বা হ্যান্ডকাফ না থাকায় হাতের কাছে থাকা হেডফোনের প্যাঁচানো তার এবং কেবিনের প্লাস্টিকের জিপ-টাই দিয়েই আক্রমণকারীকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন এই ডেন্টিস্ট। এর পরপরই তিনি রক্তক্ষরণে জ্ঞান হারানো ক্যাপ্টেন স্মিতকে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন।