NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ | ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ পরিদর্শনে এনডিসির এএফডব্লিউসি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি মোদি-পুতিন মেগাবৈঠক আজ, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি চুক্তিতে বিশেষ নজর ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরেও শেষ হয়নি গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিতর্ক বার্সেলোনার ‘রত্নকে’ নিতে চায় চেলসি নিষেধ উপেক্ষা করে যে কাজের জন্য অস্কার জেতেন এ আর রহমান ৯/১১-এর ২৫ বছর: নিউইয়র্কে স্মরণ, শোক আর অঙ্গীকার পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ প্রথম ভাঁজ করা আইফোন উন্মোচনে অ্যাপলকে স্যামসাংয়ের খোঁচা
Logo
logo

‘মাননীয়’ সম্বোধন পরিহারের সিদ্ধান্ত নিজ দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী


খবর   প্রকাশিত:  ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

‘মাননীয়’ সম্বোধন পরিহারের সিদ্ধান্ত নিজ দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী পদবির আগে সম্মানসূচক ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি নিজেই দিচ্ছেন ডিজিটাল হাজিরা।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তার পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন। নিজের দপ্তরে প্রবেশের আগে তিনি ডিজিটাল হাজিরা দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তার কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

একই সঙ্গে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও ডিজিটাল হাজিরার প্রথা প্রবর্তন করে নজির তৈরির চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন।

সরকারপ্রধান হয়ে দাপ্তরিক নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ।

 

রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিই যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরো স্পষ্ট হয়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপতির আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর আগে মাননীয় শব্দ পরিহার করার যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, এটি একটি যুগোপযোগী ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এটি ইতিমধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এবং দেশের মানুষকে যে ভালোবাসেন, এই পরিপত্র তারই বহিঃপ্রকাশ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বাসসকে বলেন, সরকারি চিঠিপত্রের সম্বোধনের আগে রাষ্ট্রপতির নামের আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর নামের আগে মাননীয় লেখা যাবে না মর্মে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, ইতিমধ্যেই আমরা তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সবগুলো মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং ইউএনওদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আজকে থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামীতে সরকারি পত্রালাপ বা গুরুত্বপূর্ণ নথিতে এই পরিপত্রের ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না মর্মে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই পরিপত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমস্ত প্রশাসনে জানিয়ে দিয়েছি। আশা করি, সবাই যার যার অবস্থান থেকে পরিপত্র যথাযথ অনুসরণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তাঁর ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন একটি বার্তা দিচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ বলেন, সার্কুলারটি ইতিমধ্যে মাঠ প্রশাসনের সমস্ত জায়গায় পৌঁছে গেছে। আজ আমরা দুয়েকটি চিঠিপত্র পেয়েছি, সেখানে পরিপত্রের বাস্তবায়ন লক্ষ করা গেছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর আগে মাননীয় শব্দটি পরিহার করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, সেটি আজ বৃহস্পতিবার থেকেই পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কোনো অফিস থেকে এর ব্যত্যয় লক্ষ করা গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।