চলতি মাসের শেষে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন ক্যারোলিন লেভিট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘোষণা দিয়েছেন।
খবর প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৮ এএম

চলতি মাসের শেষে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন ক্যারোলিন লেভিট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘোষণা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেভিটকে তার ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের’ একজন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, লেভিটের সিদ্ধান্ত তিনি পুরোপুরি বুঝতে এবং সম্মান করতে পারেন। ট্রাম্প আরো বলেন, পদ ছাড়ার পর লেভিট তার অন্যতম প্রধান বাইরের পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন।
গত মে মাসে স্বামী নিকোলাস রিচিওর সঙ্গে লেভিটের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান হয়েছে। এর আগে তাদের দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। সন্তান জন্মের পর প্রায় সাত সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন লেভিট। গত মাসে তিনি কাজে ফিরে আসেন।
তিনি বলেন, মেয়ের জন্মের পর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই তার মনে হচ্ছিল, তিনি তার দুই ছোট সন্তানের জন্য যে ধরনের মা হতে চান, তা হতে পারছেন না। কারণ প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়মিত অনেক সময়, শক্তি ও মনোযোগ দিতে হয়। এই পরিস্থিতির কারণেই অনেকটা আনন্দ-বেদনা মিশ্রিত অনুভূতি নিয়ে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান লেভিট। তার ভাষায়, এখন তিনি জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার আগেও ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন লেভিট। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি সহকারী প্রেস সেক্রেটারি ও ভাষণ লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরে নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য এলিস স্টেফানিকের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করেন তিনি। সেখানে যোগাযোগবিষয়ক পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন লেভিট। ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রার্থী হন লেভিট। রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয় পান তিনি। তবে চূড়ান্ত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপ্পাসের কাছে হেরে যান। এরপর ট্রাম্পপন্থী তহবিল সংগ্রহকারী সংগঠন মাগা ইনকরপোরেটেডের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন লেভিট। পরে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের জাতীয় প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দেন।
প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে লেভিটের সম্পর্ক সব সময় মসৃণ ছিল না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি কয়েকজন সাংবাদিককে পক্ষপাতদুষ্ট ও বামপন্থী বলে অভিযুক্ত করেছেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার দপ্তর হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগে প্রেস পুল পরিচালনার দায়িত্ব ছিল হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির হাতে। লেভিটের দপ্তর দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে। একই সময়ে ‘আমেরিকা উপসাগর’ নামটি ব্যবহার করতে অস্বীকার করায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে শুরুতে হোয়াইট হাউসের কার্যক্রম থেকেও বাদ দেওয়া হয়।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকদের মধ্যে লেভিট ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন। তাদের মতে, তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেছেন এবং প্রেসিডেন্টের নীতিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। ফক্স নিউজের উপস্থাপক ও রক্ষণশীল কর্মী রাইলি গেইনস এক উত্তেজনাপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেভিটের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সরাসরি সংবাদ সম্মেলন দেখার অভিজ্ঞতা অনলাইনে দেখার চেয়ে ভালো ছিল এবং লেভিট তার কাজে অসাধারণ।
ট্রাম্পের দুই মেয়াদের প্রশাসন মিলিয়ে লেভিট এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালন করা প্রেস সেক্রেটারি। তার চেয়ে বেশি সময় এই পদে ছিলেন শুধু সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্স। লেভিটের বিদায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসনের ষষ্ঠ প্রধান মুখপাত্র কে হবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। চলতি বছরের শুরুতে লেভিট প্রায় সাত সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন। ওই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম।
লেভিটের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন এবং কবে নতুন প্রেস সেক্রেটারির নাম ঘোষণা করা হবে, তা জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি। এদিকে বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান কর্মকর্তা স্টিফেন মিলার লেভিটকে তার ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ ও ‘আদর্শ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মিলার বলেন, তারা ভবিষ্যতেও প্রতিদিন একসঙ্গে কাজ করবেন। তার মতে, লেভিটের গল্প মাত্র শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তার জন্য কী অপেক্ষা করছে, তা দেখার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন।