হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি ড্রোন হামলার জবাবে তারা ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ‘এমটি কিকু’ নামের একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে ইরান আত্মঘাতী ড্রোন পাঠায়। এতে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে শনিবার (২৭ জুন) রাতে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষাকেন্দ্র ও ড্রোন মজুদ রাখার স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
এর আগে ২৫ জুন সিঙ্গাপুরের একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার জবাবেও ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন হামলার পর আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় চৌকিতে হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আইআরজিসি সতর্ক করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা চুক্তির পরিপন্থী এবং এর ফলে শান্তিপ্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
এই ঘটনার পর কুয়েত ও বাহরাইন তাদের নিজ নিজ বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
এই হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তেহরানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে না চলে, তবে চলমান আলোচনা অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং সংকট সমাধানে চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার কারণে এটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অনেক বেড়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ১৭ জুন একটি ১৪-দফা সমঝোতা স্মারক সই হয়, যেখানে ইরান ৬০ দিনের জন্য এই রুটে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ইরানের টোল আদায়ের প্রচেষ্টা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা এর নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির শাসনব্যবস্থা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।