নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর 'ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর'-এ বৃহস্পতিবার ভোরে বন্দুকধারীদের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ৩৫ জন নিহত হয়েছেন।
খবর প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:০৬ এএম

নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর 'ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর'-এ বৃহস্পতিবার ভোরে বন্দুকধারীদের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ৩৫ জন নিহত হয়েছেন।
পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে একই বিমানবন্দরে এটি দ্বিতীয় বড় হামলা। হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম)।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষ করার কিছুক্ষণ পরই বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নাইজারের রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী লাওয়ালি সালহা বিবিসিকে বলেন, ভোর প্রায় ৫টা ৫০ মিনিটে তারা নামাজ শেষ করেন। এর কিছুক্ষণ পর একটি বিকট শব্দ শোনা যায়।
নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ২২ হামলাকারী নিহত হন। এছাড়া চারজন হামলাকারী আহত হয়েছে এবং ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল গড়ানোর আগেই মূল সংঘর্ষ শেষ হয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। স্থানীয় কিছু বাসিন্দাও অভিযানে অংশ নেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাধারণ মানুষকে অভিযানে সরাসরি অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, হামলাকারীরা স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। ফলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় অনেক বাসিন্দা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দা, লাঠি ও অন্যান্য সরঞ্জাম হাতে নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। হামলার পর বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। যানবাহন ও যাত্রীদের কঠোর তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নাইজারের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন। তার মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণেই বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। 'ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' নাইজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা। এটি শুধু দেশের প্রধান বেসামরিক বিমানবন্দরই নয়, একই সঙ্গে একটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এছাড়া সাহেল রাষ্ট্রগুলোর জোটের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থাপনাও এই এলাকায় অবস্থিত।নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোকে নিয়ে গঠিত সাহেল রাষ্ট্রগুলোর এই জোট বর্তমানে সামরিক সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা জঙ্গি সহিংসতা দমনে ব্যর্থতার কারণে এসব দেশে সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে।
গত এক দশক ধরে ইসলামপন্থি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করছে নাইজার। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই বিমানবন্দরে হামলা হয়েছিল। তখন ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে। ওই ঘটনায় চারজন সেনাসদস্য আহত হন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২০ জন হামলাকারী নিহত হয় বলে জানিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। জানুয়ারির ওই হামলার পর নাইজারের সামরিক সরকারের প্রধান আবদুরাহামানে তিয়ানি হামলা প্রতিহত করতে সহায়তার জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ফ্রান্স, বেনিন ও আইভরি কোস্টের নেতাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। রাশিয়ার সহায়তার ধরন সম্পর্কেও বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরের আশপাশের কয়েকটি এলাকা গুঁড়িয়ে দিয়েছে নাইজার সরকার। কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঝুঁকি ছিল। পাশাপাশি বিমানবন্দরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণের পাশাপাশি ৩৫০টির বেশি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে- জানায় এএফপি।
হামলার ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি নাইজারের কর্তৃপক্ষ।