NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬ | ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ সংবাদমাধ্যমকে ‘অসৎ’ বলে এনবিসির সাক্ষাৎকার থেকে বেরিয়ে গেলেন ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে ৫ শর্ত যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানির মার্কিন ভিসা বিতর্কের মধ্যেই মেক্সিকো পৌঁছেছে ইরান বিশ্বকাপ দল ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর রাজকুমারী অ্যানের ছেলের বিয়েতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের মিলনমেলা লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বেশ কয়েকজন লেবানিজ সেনা নিহত সিঙ্গাপুরে দুটি সোনার পদক জয় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী তুরস্ক
Logo
logo

বৈভবের ঝড় ম্লান, গিল–সুদর্শনের বিশ্বরেকর্ডে ফাইনালে গুজরাট


খবর   প্রকাশিত:  ৩০ মে, ২০২৬, ০৯:০৫ এএম

বৈভবের ঝড় ম্লান, গিল–সুদর্শনের বিশ্বরেকর্ডে ফাইনালে গুজরাট

লক্ষ্য ছিল ২১৫ রানের। কিন্তু টি-টোয়েন্টির যুগে এই রান আর ততটা ‘বড়’ নয়।

মুলানপুরের পিসিএ স্টেডিয়ামে তারই প্রমাণ মিলল। অনায়াসেই সেই লক্ষ্য টপকে গেল গুজরাট টাইটান্স। দলের সাত উইকেটে জয়ে মুখ্য ভূমিকা নিলেন অধিনায়ক শুভমান গিল, তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরির সৌজন্যে। ফলে রবিবারের আইপিএল ফাইনালে হাইভোল্টেজ লড়াই।
‘কিং’ বনাম ‘প্রিন্স’-এর বহুল প্রতীক্ষিত দ্বৈরথ।

 

শুক্রবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দু’বার টস হল। প্রথমে টস জিতলেও দ্বিতীয়বার টস হওয়ায় হেরে যান গুজরাট অধিনায়ক। আসলে প্রথমে গিলকে কয়েনটি স্পিন করতে বলেন ম্যাচ রেফারি।

কিন্তু রিয়ান পরাগ যে হেড কল করেছেন, তা কানে পৌঁছয়নি তার। টেল পড়ায় গিল জিতেও যান। কিন্তু রেফারি রিয়ানের কল শুনতে পাননি বলে গিলকে ফের টস করতে বলেন। ঘটনায় বেশ বিরক্তই হন গুজরাট ক্যাপ্টেন। কিন্তু নিয়ম মেনে তিনি ফের টস করতে বাধ্য হন।
এবার রিয়ান হেড কল করেন। হেডই পড়ে। ফলে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় রাজস্থান।

 

প্রথমে ব্যাটিং নিলেও শুরুটা কিন্তু জমাতে পারল না রাজস্থান। সাত তাড়াতাড়ি ফিরলেন যশস্বী জয়সওয়াল (১) এবং ধ্রুব জুরেল (৭)। এরপর রবীন্দ্র জাডেজার সঙ্গে বৈভব সূর্যবংশীর ১২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি রাজস্থানকে লড়াকু স্কোরে পৌঁছে দেয়। 

জাড্ডু অপরাজিত থাকেন ৩৫ বলে ৪৫ রানে। তার আগে অবশ্য ক্রিকেটবিশ্ব আরও একবার সাক্ষী থাকল বৈভব-তাণ্ডবে। এদিন অবশ্য অনেক ‘পরিণত’ বৈভবকে দেখা গেল। ৩১ বলে হাফসেঞ্চুরি করল বাঁহাতি তারকা। যা আইপিএলে তার সবচেয়ে মন্থর পঞ্চাশ। আগের ম্যাচে ২৯ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেও, এদিন দলের স্বার্থে তাকে অনেক বেশি ধীরস্থির হয়ে ব্যাট করেছে সে। অর্ধশতরান আসে ১৩তম ওভারে। তবে পঞ্চাশের পরই গিয়ার বদলে আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে শুরু করে বৈভব। এক সময় মনে হচ্ছিল সেঞ্চুরি সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু কাগিসো রাবাডার শর্ট বলে থার্ডম্যান অঞ্চলে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামতে হয় তাকে। ১৫ বছরের এই ব্যাটারের ৪৭ বলে ৯৬ রানের ইনিংসকে সম্মান জানাতে গোটা মাঠ দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়। শেষদিকে ডোনোভান ফেরেরা রশিদ খানকে শেষ ওভারে চারটি ছক্কা মেরে দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করান।

২১৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে আগ্রাসী মনোভাব দেখায় গুজরাট। প্রথম ওভারেই জফ্রা আর্চারকে চারটি চার মেরে চাপে ফেলে দেন ওপেনাররা। নান্দ্রে বার্গার ও ব্রিজেশ শর্মাও রানের গতি আটকাতে পারেননি। পাওয়ার প্লে শেষ হতেই গুজরাট তুলে ফেলে ৬৯ রান। এরপরও থামেনি দাপট। সময়ের সঙ্গে আরও একপেশে হয়ে ওঠে ম্যাচ। নবম ওভারেই শতরানের জুটি গড়ে তোলেন শুভমান গিল ও সাই সুদর্শন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই জুটির এটি ১১তম শতরান। যা একটি নজিরবিহীন রেকর্ড।

রান আটকাতে স্পিনারদের আক্রমণে আনলেও উলটো ফল হয়। রবীন্দ্র জাডেজা ও যশ রাজ পুঞ্জার বলেও কেমন যেন ম্যাড়ম্যাড়ে। মনে হচ্ছিল, কোনও উইকেট না হারিয়েই ম্যাচ শেষ করে দেবে গুজরাট। কিন্তু হঠাৎই ‘অদ্ভুত’ বিদায় সুদর্শনের। আগের ম্যাচের মতো এবারও হিট উইকেট তিনি। চার পেলেও লাভ হয়নি। বল বাউন্ডারিতে গেলেও তার আগেই ব্যাট লেগে স্টাম্প ভেঙে যায়। হতাশায় মাথায় হাত দেন সুদর্শন, আর অন্য প্রান্তে থাকা গিলও অবাক হয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন। ৩২ বলে ৫৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি।

এরপর গিল নিজের ছন্দ বজায় রেখে রবীন্দ্র জাডেজাকে চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। দুর্দান্ত এই ইনিংসে ৫৩ বলে ১০৪ রান করেন তিনি। ছিল ১৫টি চার ও ৩টি ছয়। তবে ১৫তম ওভারে আর্চারের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরতে হয় গুজরাট অধিনায়ককে। শেষদিকে ওয়াশিংটন সুন্দর (১৬) আউট হলেও ম্যাচ জেতাতে কোনও সমস্যা হয়নি। জস বাটলার ও রাহুল তেওতিয়া ৮ বল বাকি থাকতে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন