NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬ | ১ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন গুম ও খুনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা শান্তিচুক্তি ট্রাম্পের ‘আত্মসমর্পণের দলিল’? দুর্দান্ত কামব্যাকে নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিল জাপান ভক্তদের ভিড়ে নাজেহাল রাশমিকা, আগলে রাখলেন কৃতি রক্তক্ষয়ী কঙ্গোতে শান্তির পতাকা উত্তোলনে সেনাবাহিনীর বীরত্ব মরক্কোর সঙ্গে ড্র, হতাশায় ‘হেক্সা অভিযান’ শুরু ব্রাজিলের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে এক টুকরো বাংলাদেশ! গানে গানে সৈয়দ আব্দুল হাদীকে শ্রদ্ধা, দেওয়া হলো সংবর্ধনা কক্সবাজারে আজ যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেকে ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ ইঙ্গিত দিচ্ছেন ট্রাম্প?
Logo
logo

জাহাজেই কাটল ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের ঈদ


খবর   প্রকাশিত:  ২৮ মে, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

জাহাজেই কাটল ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের ঈদ

ঈদ মানে আনন্দ। সেই আনন্দের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত পারস্য উপসাগরের বুকে ভাসছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা।

ঈদুল ফিতরের ঈদও তাদের কেটেছে বাইরে। তাদের আশা ছিল কোরবানির ঈদ পরিবারের সঙ্গে কাটাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ইরানের অনুমতি না মেলায় এবার ঈদুল আজহার নামাজও তাদের আদায় করতে হলো জাহাজের মধ্যে।

 

​বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় যখন জাহাজের নেভিগেশন ব্রিজে ঈদের জামাত শুরু হয়, তখন সবার মনেই ছিল এক চাপা কষ্ট।

জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম খানের পেছনে লাইনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক। মোনাজাতে দেশের জন্য, পরিবারের জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি ছিল একটাই আকুতি—‘কবে ফিরব ঘরে?’

 

​গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরের দিনই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ। হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক বেড়াজালে আটকে পড়ে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।

 

​গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে এখনো অবরুদ্ধ আমাদের নাবিকেরা। অথচ এই সময়ে অন্যান্য অনেক দেশের জাহাজ ইরানের সবুজসংকেত নিয়ে পার পেয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং নাবিকদের কয়েক দফার চেষ্টা সত্ত্বেও মেলেনি পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার ছাড়পত্র।

​ঈদের সুস্বাদু খাবার আর কোলাকুলি সাময়িকভাবে নাবিকদের মুখে হাসি ফোটালেও, বুকের ভেতর জমে থাকা মেঘ কাটেনি। লোনা জলের এই বন্দিদশা কত দিন চলবে, তা জানা নেই কারো।

 

​ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলামের কণ্ঠেও সেই অনিশ্চয়তার সুর, কবে নাগাদ হরমুজ পার হতে পারব, এখনো জানি না। টানা তিন মাস ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির শিকার হয়ে সাগরে ভাসতে থাকা এই ৩১ জন মানুষ এখন কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা গুনছেন। ঘরে ফেরার একেকটি দিন যেন তাদের কাছে একেকটি যুগের সমান। স্বজনদের কাছে ফেরার অপেক্ষায় তারা।