NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ২৫, ২০২৬ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Logo
logo

আত্মনির্ভরশীল জ্বালানির পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ


খবর   প্রকাশিত:  ২৫ মে, ২০২৬, ১০:০৫ এএম

আত্মনির্ভরশীল জ্বালানির পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা এমন একটি উদ্যোগের উদ্বোধন করছি যা শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগই নয় বরং এটি বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের একটি প্রতীক।’

 

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবনে এক মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বোধনের মাধ্যমে একটা বার্তা আমরা স্পষ্টভাবে দিতে পারব। সেটি হলো- বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি এবং আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’-এর উদ্বোধন করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীরবিক্রম।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, লুই আই কানের নকশায় নির্মিত এই জাতীয় সংসদ ভবন অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রের প্রতীক। আজ সেই ভবনের ছাদে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছি, নেতৃত্ব কেবল নীতিতেই নয় বরং বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হতে হবে।

 

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন করার চেষ্টা করছে। আমাদের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হচ্ছে।

শিল্পায়ন বাড়ছে। বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।’

 

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বর্ষণ, ঘূর্ণিঝড় এবং নদীভাঙন এসব প্রতিদিনের বাস্তবতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এ কারণেই টেকসই জ্বালানির পথে অগ্রসর হওয়া এখন আর শুধু পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নয় বরং এটি আমাদের অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য একটি অংশ। সৌরশক্তি সেই সম্ভাবনার সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক।

’ তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রতিবর্গ কিলোমিটারে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কিলোওয়াট ঘণ্টার সৌরশক্তি পাওয়া যায়। আমাদের অসংখ্য ছাদ, শিল্প এলাকা, খোলা জমি এবং উপকূলীয় অঞ্চল নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জাতীয় সংসদ ভবনের এই উদ্যোগ দেশের সব সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রাণিত করবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও প্রতিটি নাগরিক যদি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির এই অভিযাত্রায় অংশ নেয় তবে বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ খুব দ্রুতই টেকসই উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।’

এ সময়ে মঞ্চে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্য এবং জাতীয় সংসদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।