NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, মে ২৪, ২০২৬ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আগামী এক বছর ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ভারত-মার্কিন সর্ম্পক দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, বললেন রুবিও পাক সেনাপ্রধানের তেহরান সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ গোল উৎসবে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতল বার্সেলোনা নিউ ইয়র্কে শুরু ৩৫তম আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের নিজ দেশ থেকেই আবেদন করতে হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা থেকে তুলসী গ্যাবার্ডের পদত্যাগ নিউইয়র্কে ড্রাই ডকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১ নীল গাউনে কানের মঞ্চ মাতালেন ঐশ্বরিয়া
Logo
logo

চীনা উপহার ফেলে দিল মার্কিন প্রতিনিধিদল—কী বলছে ফ্যাক্ট চেক?


খবর   প্রকাশিত:  ১৭ মে, ২০২৬, ১০:০৫ এএম

চীনা উপহার ফেলে দিল মার্কিন প্রতিনিধিদল—কী বলছে ফ্যাক্ট চেক?

চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরসঙ্গী মার্কিন প্রতিনিধিদলকে বার্নার ফোন, পরিচয়পত্র এবং বিভিন্ন স্মারক উপহার দিয়েছিল চীন। তবে সেসবের কিছুই নেয়নি তারা, বরং বিমানে ওঠার আগে সব উপহার ফেলে গেছে ময়লার ঝুড়িতে—এমন একটি খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে পাওয়া তথ্য বলছে, ঘটনাটি আংশিক সত্য, ব্যাখ্যা কিংবা অনির্ভরযোগ্য প্রচারের মিশ্রণ হতে পারে।

 

ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ‘চীন থেকে কিছুই বিমানে তোলা হয়নি।’ এ ছাড়া ‘মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিমানে ওঠার আগেই ময়লার ঝুড়িতে উপহার সামগ্রী ফেলে দেন।’ কিছু পোস্টে এমনও বলা হয়ছে যে, ‘সাংবাদিকরাও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন।

 

মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্ট ও হোয়াইট হাউস প্রেস পুলের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের কথিত মন্তব্যকে উল্লেখ করা হচ্ছে। কারণ বহুল ব্যবহৃত একটি বক্তব্যে সাংবাদিক এমিলি গুডিনকে বলতে দেখা যায়, ‘চীন থেকে কিছুই বিমানে নেওয়ার অনুমতি ছিল না যুক্তরাষ্ট্রের।’

তবে এটি কোনো সরকারি বিবৃতি বা যাচাইকৃত প্রতিলিপি নয়; বরং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি স্বতন্ত্র মন্তব্য।

এ পর্যন্ত পাওয়া বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভাইরাল দাবির মতো ‘সমন্বিতভাবে সব কিছু ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেওয়ার’ ঘটনার নিশ্চিত কোনো প্রমাণ মেলেনি।

বরং ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, কূটনৈতিক সফরে ব্যবহৃত কিছু অস্থায়ী সামগ্রী (প্রবেশপত্র, ব্যাজ বা প্রটোকলসংক্রান্ত উপকরণ) ফেরত দেওয়া বা বাতিল করা হয়ে থাকতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধানদের বিদেশ সফরে কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় অস্থায়ী যোগাযোগ ডিভাইস, সীমিত ব্যবহারের ইলেকট্রনিক যন্ত্র বা বিশেষ পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়। যাতে নজরদারি বা তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি কমানো যায়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশ সফরে সরকারি প্রতিনিধিদল নিরাপত্তার স্বার্থে অস্থায়ী বা নিয়ন্ত্রিত ডিভাইস ব্যবহার করে থাকে।

তবে সেখান থেকে ‘সব চীনা সামগ্রী প্রকাশ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে’—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা চীনা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। ফলে ভাইরাল দাবিটি যাচাইবিহীনই রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক কনটেন্টে প্রায়ই আংশিক তথ্যের সঙ্গে মনগড়া অতিরঞ্জন ব্যাখ্যা যুক্ত হয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য গল্প তৈরি হয়। ট্রাম্পের চীন সফর ঘিরে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনাও তেমন একটি উদাহরণ হতে পারে।