NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, মে ২৪, ২০২৬ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আগামী এক বছর ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ভারত-মার্কিন সর্ম্পক দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, বললেন রুবিও পাক সেনাপ্রধানের তেহরান সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ গোল উৎসবে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতল বার্সেলোনা নিউ ইয়র্কে শুরু ৩৫তম আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের নিজ দেশ থেকেই আবেদন করতে হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা থেকে তুলসী গ্যাবার্ডের পদত্যাগ নিউইয়র্কে ড্রাই ডকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১ নীল গাউনে কানের মঞ্চ মাতালেন ঐশ্বরিয়া
Logo
logo

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে ন্যাটোর নিন্দা করলেন পুতিন


খবর   প্রকাশিত:  ১০ মে, ২০২৬, ১০:০৫ এএম

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে ন্যাটোর নিন্দা করলেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মস্কোর রেড স্কোয়ারে বিজয় দিবসের ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অবস্থানকে ন্যায্য বলে দাবি করেছেন এবং ন্যাটোর সমালোচনা করেছেন।

তিনি শত শত সেনা সদস্য এবং কয়েকজন বিশ্বনেতার সামনে বলেন, রাশিয়া একটি ‘ন্যায্য যুদ্ধ’ লড়ছে। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনকে ‘আগ্রাসী শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, ন্যাটো জোট ইউক্রেনকে অস্ত্র ও সমর্থন দিচ্ছে।

এই অনুষ্ঠান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে আয়োজন করা হয়।

শত শত সেনা সদস্যের উপস্থিতিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়। ছিলেন কিছু বিদেশি অতিথিও।

 

এবারের কুচকাওয়াজে প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবার কোনো সামরিক যান দেখা যায়নি। তবে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সেনারা রেড স্কয়ারে মার্চ করেন।

ভাষণের শুরুতে পুতিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত সেনাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং পরে ইউক্রেন যুদ্ধকে সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করেন।

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়া ন্যাটো জোটের সমর্থিত একটি আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে, তবুও তাদের সেনারা এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি রাশিয়ার বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সামরিক কর্মীদের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অবদানের জন্য প্রশংসা করেন। পুতিন বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ জনগণের হাতেই নির্ভর করছে।

 

ভাষণের পর কামানের গুলি ও সামরিক ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। এ ছাড়া লাওসের প্রেসিডেন্ট ও মালয়েশিয়ার রাজাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের তুলনায় এবার কম বিদেশি নেতা অংশ নেন। ভাষণের পর রুশ টিভিতে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনাদের দৃশ্যও সম্প্রচার করা হয়।

 

মস্কোর কুচকাওয়াজের আগেই রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোতে অন্যান্য উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভ্লাদিভোস্তকের উদযাপন, যেখানে মানুষ ‘অমর রেজিমেন্ট মার্চ’ নামে পরিচিত যুদ্ধ-প্রবীণদের স্মরণে একটি পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিল।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুসারে, দেশজুড়ে অনুষ্ঠিতব্য কিছু প্যারেডে সামরিক যান অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা ছিল, যদিও সেগুলোর বেশির ভাগই আধুনিক না হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বলে জানা গেছে। অন্যান্য প্যারেড এবং গণ-উৎসব পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরু হয় এবং তা চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এবার রাশিয়ার বার্ষিক মস্কো প্যারেডে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণত এই কুচকাওয়াজে ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্রসহ নানা সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়, কিন্তু এবার তা সীমিত রাখা হয়েছে। রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ ধরনের অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রেই বেশি প্রয়োজন। রাশিয়ার এমপি ইয়েভজেনি পোপভ বলেন, ‘আমাদের ট্যাংকগুলো এখন যুদ্ধ করছে, রেড স্কয়ারের চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রেই তাদের বেশি দরকার।’

এ ছাড়া ইউক্রেনের ড্রোন হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। এ কারণেই এবারের প্যারেড আগের তুলনায় ছোট ও সীমিত আকারে আয়োজন করা হয়েছে।

রাশিয়ার বিভিন্ন অংশে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর বলে মনে হয়েছে। এর আগে পুতিন ৮-৯ মে-র জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, অন্যদিকে কিয়েভ ৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিল। এই ঘোষণাগুলোর পর থেকে, উভয় দেশই যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে অভিযুক্ত করেছে।