NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, মে ২৪, ২০২৬ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আগামী এক বছর ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ভারত-মার্কিন সর্ম্পক দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, বললেন রুবিও পাক সেনাপ্রধানের তেহরান সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ গোল উৎসবে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতল বার্সেলোনা নিউ ইয়র্কে শুরু ৩৫তম আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের নিজ দেশ থেকেই আবেদন করতে হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা থেকে তুলসী গ্যাবার্ডের পদত্যাগ নিউইয়র্কে ড্রাই ডকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১ নীল গাউনে কানের মঞ্চ মাতালেন ঐশ্বরিয়া
Logo
logo

২৬ প্রভাবশালীর ভিসা বাতিল করলো যুক্তরাষ্ট্র


খবর   প্রকাশিত:  ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৪ এএম

২৬ প্রভাবশালীর ভিসা বাতিল করলো যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণা। পশ্চিম গোলার্ধে আধিপত্য বজায় রাখতে এবং প্রতিপক্ষ দেশগুলোর প্রভাব রুখতে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু করেছে ‘ডনরো ডকট্রিন’। এই নতুন নীতির আওতায় ইতিমধ্যেই ২৬ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।

 
 

 


প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতিতে যুক্ত হলো এক নতুন ও আক্রমণাত্মক মাত্রা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পশ্চিম গোলার্ধের দেশগুলোর যেসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করবে বা প্রতিপক্ষ শক্তিকে সহায়তা দেবে, তাদের ওপর কঠোর ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে। এই নীতির প্রাথমিক ধাক্কায় ইতিমধ্যেই ২৬ জন ব্যক্তি তাদের মার্কিন ভিসা হারিয়েছেন।

 

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এই কৌশলটি ১৯ শতকের ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। মূলত ল্যাটিন আমেরিকা ও আশপাশের দেশগুলোতে মার্কিন প্রভাব সুসংহত করাই এর প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ এবং মাদক পাচারকারী কার্টেলগুলোর প্রভাব রুখতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন অনেক বেশি কঠোর।

 

 

বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যারা জেনেশুনে মার্কিন প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে পরিচালনা, অর্থায়ন বা কোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দেবে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। এর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত সম্পদ বা খনিজ সম্পদের ওপর বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা।

 

 

ডনরো ডকট্রিনের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। যেমন, মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত হানা এবং স্বাধীন দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে কোনো প্রভাব বিস্তারকারী অপারেশন পরিচালনা করা। তবে পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন, পররাষ্ট্র দপ্তরের এই বিবৃতিতে সরাসরি চীন বা কোনো নির্দিষ্ট মাদক কার্টেলের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

 

 

এই অস্পষ্ট ভাষাকেই বিপজ্জনক মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। সমালোচকদের মতে, এই নীতির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত বিদেশি সমালোচক এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে। 

 

 

অতীতেও রাজনৈতিক কারণে ভিসা বাতিলের নজির রয়েছে, যা এই নতুন ডকট্রিনের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

 


পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার এই লড়াইয়ে ‘ডনরো ডকট্রিন’ আগামী দিনে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। এটি কি কেবল নিরাপত্তা রক্ষার কৌশল, নাকি রাজনৈতিক দমনের হাতিয়ার, তা নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে।