NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ২৫, ২০২৬ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আগামী এক বছর ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ভারত-মার্কিন সর্ম্পক দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, বললেন রুবিও পাক সেনাপ্রধানের তেহরান সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ গোল উৎসবে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতল বার্সেলোনা নিউ ইয়র্কে শুরু ৩৫তম আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের নিজ দেশ থেকেই আবেদন করতে হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা থেকে তুলসী গ্যাবার্ডের পদত্যাগ নিউইয়র্কে ড্রাই ডকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১ নীল গাউনে কানের মঞ্চ মাতালেন ঐশ্বরিয়া
Logo
logo

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ভার্চুয়াল সেমিনার নাগরিক চার্টার প্রণয়নের প্রস্তাব স্টেপ টু হিউম্যানিটি বাংলাদেশের


খবর   প্রকাশিত:  ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০৪ এএম

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ভার্চুয়াল সেমিনার নাগরিক চার্টার প্রণয়নের প্রস্তাব স্টেপ টু হিউম্যানিটি বাংলাদেশের

বাঙালির সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক আনন্দোৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় ১১ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যায় স্টেপ টু হিউম্যানিটি বাংলাদেশ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সেমিনারে উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের জন্য একটি নাগরিক চার্টার প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর নাগরিক চার্টার তৈরি করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত নাগরিক চার্টারে বর্তমান সংবিধানের মূলনীতি, মানবাধিকার, আইনের শাসন, দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা, স্বাধীন বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ প্রবাসী সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহিদ। কানাডার একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ গবেষণা অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে আরও অর্থবহ করতে প্রচলিত সংবিধানের আলোকে একটি নাগরিক চার্টার প্রণয়নের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ কোনো ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক উৎসব নয়; এটি বাঙালির সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক আনন্দোৎসব। মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ‘ফসলি সন’ প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলা সনের সূচনা হয়, যা পরে ‘বাংলা সন’ নামে পরিচিতি পায়। হিজরি সনের সঙ্গে কৃষিকাজের সময়সূচির অসামঞ্জস্য দূর করতে এই সনের প্রচলন করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় পহেলা বৈশাখ বাঙালির ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশের সূচনা এবং নতুন বছরের শুভ সূচনার মাধ্যমে একটি সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে, যা আজ বাঙালির প্রাণের উৎসব হিসেবে পরিচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যক্ষ সাদিকের পুত্র, লেখক ও সমাজতাত্ত্বিক ড. কামরুল হাসান, সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লা এবং সভাপতি, স্টেপ টু হিউম্যানিটি বাংলাদেশ।

সভাপতির বক্তব্যে ড. কামরুল হাসান বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে দেশে মানবাধিকার উন্নয়নকে আরও কার্যকর করতে প্রশাসনের সর্বস্তরে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে জনগণের কল্যাণে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এসব উদ্যোগ আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার পুন্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এর সাবেক পরিচালক ড. আনোয়ার জাহিদ।

আলোচনায় অংশ নেন বার্ডের সাবেক পরিচালক নারী নেত্রী নাসিমা আক্তার; সাংবাদিক খায়রুল আহসান মানিক (ইউএনবি), ভাইস প্রেসিডেন্ট, স্টেপ টু হিউম্যানিটি বাংলাদেশ; সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন (বাসস); ফিরোজ মিয়া, সম্পাদক, দৈনিক ভোরের সূর্যোদয়; সাংবাদিক শামসুল হাবিব (যুগান্তর); সাইফুর হাসান, সাইবার সিকিউরিটি কর্মকর্তা; প্রবাসী ব্যবসায়ী শাওকাত ইকবাল; জাতীয় দাবাড়ু এসরার জাহিদ এবং প্রকৌশলী কোৱা হাসান ইভানা।

সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, সুশাসন ও জাতীয় ঐক্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামনে রেখে পার্লামেন্টে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এদিকে প্রবীণ সাংবাদিক এ এস এম হাবিবুল্লাহর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রধান অতিথি দেলোয়ার জাহিদ। সাংবাদিকতার অতীত স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, “তার মৃত্যুতে দেশ একজন নিবেদিতপ্রাণ ও পেশাদার সাংবাদিককে হারালো।”

সভায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকৌশলী কোৱা হাসান ইভানা।