NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬ | ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ জাতিসংঘে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও সময়োপযোগী জাতিসংঘ পুলিশ গঠনের আহ্বান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ একটি জাতীয় আন্দোলন : প্রধানমন্ত্রী আজ রাতেই ইরানে কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের মেজাজ হারিয়ে দলীয় কর্মীদের পেটালেন মমতা বেন স্টোকসের বিদায়ী বার্তা ফাঁস, ইংল্যান্ডকে কাঠগড়ায় তুলল আইসিসি অপু বিশ্বাস কি আবার বিয়ে করেছেন? নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান ছবি পোস্ট করে মেলোনিকে আবার খোঁচা ট্রাম্পের
Logo
logo

মামদানি জেতার কারণে নিউইয়র্কে কী করবেন ট্রাম্প?


খবর   প্রকাশিত:  ০৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:১১ এএম

মামদানি জেতার কারণে নিউইয়র্কে কী করবেন ট্রাম্প?

নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের ভোট শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। সঙ্গে নিউইয়র্ককে হুমকিও দিয়েছিলেন, যদি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি জয়ী হন, তবে নিউইয়র্কের ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেবেন।

ট্রাম্পের শঙ্কাকে সত্যি করে এবার নিউইয়র্কের মেয়রের মসনদে ঠিকই বসছেন মামদানি। প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশিয়ান বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই শহরের মেয়র।

রবিবার সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ‘মামদানি একজন কমিউনিস্ট। যদি সে জিতে যায়, তবে নিউইয়র্কে অর্থ দেওয়া কঠিন হবে।’

নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যদি কমিউনিস্ট প্রার্থী জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়, তবে আমি প্রয়োজনীয় ন্যূনতম অর্থ ছাড়া আর কোনো ফেডারেল তহবিল দেব না। একজন কমিউনিস্টের নেতৃত্বে এই শহরের সফলতার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মামদানি জিতলে নিউইয়র্ক সিটি এক সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। আমি বরং এমন একজন ডেমোক্র্যাটকে জিততে দেখতে চাই, যার সাফল্যের রেকর্ড আছে, একজন ব্যর্থ কমিউনিস্টকে নয়।’

সিবিএস নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘যদি নিউইয়র্কে একজন কমিউনিস্ট থাকে, তবে সেখানে অর্থ পাঠানো মানে সেই অর্থ নষ্ট করা। আমি তখন নিউইয়র্কে অর্থ দিতে চাইব না।’

নিউইয়র্কের রাজ্য কম্পট্রোলারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে শহরটি ৭.৪ বিলিয়ন ডলার ফেডারেল তহবিলের প্রয়োজন হবে। এই তহবিল মোট বাজেটের ৬.৪ শতাংশ।

২০২৫ সালে নিউইয়র্ক সিটির পরিচালনা বাজেট ছিল ৯.৭ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১.১ বিলিয়ন ছিল মহামারি তহবিল। এই অর্থের বড় অংশই যায় শহরের হাউজিং ও সামাজিক সেবামূলক সংস্থাগুলোর জন্য।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, ফেডারেল তহবিল বণ্টনের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নয়, কংগ্রেসের। সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদের ৮ ও ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কর সংগ্রহ ও অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। প্রেসিডেন্ট নিজের সিদ্ধান্তে অর্থ বন্ধ করলে তা অসাংবিধানিক বলে গণ্য হবে।

১৯৭৪ সালে ‘ইমপাউন্ডমেন্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট’ পাস হয়, যা বলে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেস অনুমোদিত তহবিল সর্বোচ্চ ৪৫ দিন আটকে রাখতে পারেন, তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তা কার্যকর নয়।

যদিও বর্তমানে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকান দলের হাতে। সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের ২২০টি ও ডেমোক্র্যাটদের ২১২টি আসন।

এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন নিউইয়র্কের ফেডারেল তহবিল আটকে রেখেছিল। মেয়র এরিক অ্যাডামসের সময় নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট অথরিটির জন্য বরাদ্দ ১২ মিলিয়ন ডলার স্থগিত করা হয়। এই অর্থ পুলিশ বিভাগের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে ব্যবহারের কথা ছিল।

রাজ্য কম্পট্রোলারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘নিউইয়র্ক সিটিকে জানানো হয়েছে যে শত শত মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল তহবিল কাটা বা স্থগিত হতে পারে।’ ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ অর্থবছরে শহরের দৈনন্দিন বাজেট থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৬ সালে ১৩৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে।