NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬ | ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ জাতিসংঘে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও সময়োপযোগী জাতিসংঘ পুলিশ গঠনের আহ্বান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ একটি জাতীয় আন্দোলন : প্রধানমন্ত্রী আজ রাতেই ইরানে কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের মেজাজ হারিয়ে দলীয় কর্মীদের পেটালেন মমতা বেন স্টোকসের বিদায়ী বার্তা ফাঁস, ইংল্যান্ডকে কাঠগড়ায় তুলল আইসিসি অপু বিশ্বাস কি আবার বিয়ে করেছেন? নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান ছবি পোস্ট করে মেলোনিকে আবার খোঁচা ট্রাম্পের
Logo
logo

বিদেশে বেশি বেতন-রাজকীয় জীবনের ফাঁদ, আবুলের টার্গেট বিধবা নারী


খবর   প্রকাশিত:  ১২ জানুয়ারী, ২০২৪, ০৩:৩২ এএম

>
বিদেশে বেশি বেতন-রাজকীয় জীবনের ফাঁদ, আবুলের টার্গেট বিধবা নারী

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে অধিক বেতনে চাকরি, রাজকীয় জীবনযাপনসহ ফ্রিতে হজ করানোর কথা বলে বেকার, অল্পশিক্ষিত, অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারের তালাকপ্রাপ্ত নারীদের প্রলুব্ধ করতেন আবুল হোসেন (৫৪)৷ তাদের বিদেশে পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

বৈধ প্রতিষ্ঠান কনকর্ড অ্যাপেক্স রিক্রুটিং এজেন্সিকে ব্যবহার করে নারী পাচার করে আসছিলেন আবুল। পাচারের শিকার নারীরা প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর নির্যাতন চালাতেন তিনি।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা আবুল হোসেন, চক্রের নারী সদস্য মোছা. আলেয়া বেগমকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

অভিযানে গিয়ে র‍্যাব জিম্মির শিকার তিন নারী ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।  গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ৩১টি পাসপোর্ট, বিভিন্ন ডকুমেন্ট ২২ পাতা ও দুইটি মোবাইল।

সোমবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফট্যানেন্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল-মোমেন।

তিনি বলেন, গত ৭ আগস্ট বিকেলে নয়া পল্টনে কনকর্ড অ্যাপেক্স রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য মূলহোতা আবুল হোসেন ও তার সহযোগী মোছা. আলেয়া বেগম গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবুল হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বৈধ প্রতিষ্ঠান কনকর্ড অ্যাপেক্স রিক্রুটিং এজেন্সির আড়ালে নারী পাচার ও নির্যাতনের মতো এমন জঘন্য অপকর্ম করে আসছিলেন। তিনি মূলত এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান। তার এ কাজের অন্যতম সহযোগী আলেয়া বেগম। এ ছাড়া অসংখ্য দালাল রয়েছে। 

দালালদের মাধ্যমে তিনি মূলত সমাজের বেকার, অল্পশিক্ষিত, অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারগুলোর বিবাহিত বা তালাকপ্রাপ্ত মেয়ে ও নারীদের মধ্যেপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে অধিক বেতনে চাকরি, বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা, রাজকীয় থাকা-খাওয়ার সুবিধা, স্মার্টফোন দেওয়া এবং সৌদিতে হজ করানোর মতো ধর্মভিত্তিক লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

র‍্যাব-১ সিও বলেন, বিদেশে যাওয়ার পর প্রথমে তারা ভুক্তভোগীদের জানালাবিহীন কক্ষে আটকে রাখে এবং পরে দুই-তিন দিন পর  সেসব দেশের নাগরিকরা ভুক্তভোগীদের পছন্দ করে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর তাদের দিয়ে সব ধরনের কাজ করানো, খাবারের উচ্ছিষ্ট খেতে দেওয়া বা কোনো প্রকার খাবার খেতে না দেওয়া এবং অকারণে মারধরের মাধ্যমে অমানবিক নির্যাতন করা হতো।

গ্রেপ্তার আলেয়া বেগম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি এ মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম সহযোগী এবং দালাল হিসেবে কাজ করেন। তিনি এর আগে বিজয় নগরের আল ফালাহ এজেন্সির মাধ্যমে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৮/৩৯ জন নারী এবং ২০২১ সাল থেকে আবুল হোসেনের মালিকানাধীন অ্যাপেক্স রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মোট ১২ জন নারীকে বিদেশে পাঠিয়েছেন। তিনি মূলত অন্যান্য দালালসহ গ্রামাঞ্চল থেকে ভুক্তভোগীদের বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে এজেন্সি অফিসে নিয়ে আসতেন।

এ ছাড়া, আলেয়া বেগম বিদেশে যাওয়া ভুক্তভোগী ও পরিবারের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে টিপসই নিয়ে তাতে পরে নিজেদের সুবিধামতো চুক্তিপত্র টাইপ করে নিতেন।

আবুল হোসেন বিদেশে পাঠানোর কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের কর্মকর্তা।