যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় পালো অল্টো হাই স্কুলের একদল অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের একটি মসজিদ পরিদর্শনের সফর নিয়ে স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। দুই ইহুদি অভিভাবক, তিনজন সাবেক ইহুদি শিক্ষার্থী, একজন হিন্দু অভিভাবক ও একজন জরথুস্ত্রীয় অভিভাবককে প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠন — "কমিউনিটি মেম্বারস ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস" — এই মামলা দায়ের করেছে, তাদের অভিযোগ, স্কুল শিক্ষার্থীদের এমনভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছে যেন ইসলাম সামাজিক ন্যায়বিচার আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, স্কুলের "সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে" কর্মসূচির অধীনে গত শরতে শিক্ষার্থীদের একটি মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যেখানে তাদের কোরআনের কপি দেওয়া হয় এবং ছাত্রীদের হিজাব পরার জন্য উৎসাহিত করা হয় বলে অভিযোগ। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, অভিভাবকদের সম্মতি ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ছবি তুলে অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছিল। মামলায় পালো অল্টো ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং স্কুলের অধ্যক্ষ ব্রেন্ট ক্লাইনকেও বিবাদী করা হয়েছে।
স্কুল ডিসট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস এক বিবৃতিতে জানান, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের মাধ্যমেই তাঁরা প্রথম এই মামলার কথা জানতে পারেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তাঁদের কাছে কোনো নথি পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, তিনি অভিযোগপত্রটি পড়েছেন, তবে স্কুল ডিসট্রিক্ট এখনো কোনো অভিযোগ যাচাই করতে পারেনি। গ্লাস আরও বলেন, যেকোনো ধর্মীয় শিক্ষা অবশ্যই একাডেমিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, ধর্মচর্চামূলক হওয়া চলবে না। স্কুল ডিসট্রিক্ট তাদের চলমান নীতি পর্যালোচনা করে দেখছে বলে তিনি জানান।
অভিভাবকপক্ষ চাইছে, স্কুল ডিসট্রিক্ট স্বীকার করুক যে তারা শিক্ষার্থীদের তদারকিতে অবহেলা করেছে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গোপনীয়তা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) বে এরিয়া কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক জাহরা বিলুর সংস্পর্শেও আনা হয়েছিল। যিনি মে মাসে দেওয়া এক মন্তব্যের জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন, যেখানে তিনি সমর্থকদের জায়নবাদ-বিরোধী মনোভাব প্রকাশে আরও সতর্ক হতে বলেছিলেন।
বিলু নিজে অবশ্য সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এই মামলা "বিভ্রান্তিকর।" তাঁর ভাষ্যে, সরকারি স্কুল ও রাষ্ট্রের ধর্মের প্রতি নিরপেক্ষ থাকার বাধ্যবাধকতা আছে ঠিকই। কিন্তু নিরপেক্ষতার অর্থ শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণভাবে আড়াল করে রাখা নয়। শিক্ষকদের কাজ হলো শিক্ষার্থীদের ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বদৃষ্টির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, আর এই সফরে ঠিক সেটাই হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বেচ্ছামূলক এবং তাদের ইসলামি ধর্মচর্চা সম্পর্কে শেখানো হয়েছিল। বিলু অভিভাবকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, তাঁরা শুধু নিজেদের সন্তানদের অন্যদের সম্পর্কে শেখা থেকে বিরত রাখতে চাইছেন তা নয়। বরং স্কুল ও স্কুল ডিসট্রিক্টগুলোকে পরবর্তী প্রজন্মকে শিক্ষিত করার প্রয়োজনীয় কাজ থেকে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে রাখারও চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষায়, "ঘৃণা মোকাবিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়গুলোর একটি হলো একে অপরের সম্পর্কে জানা।"
মামলাটি এখনো আদালতে বিচারাধীন, আর এখন পর্যন্ত স্কুল ডিসট্রিক্টের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর সরাসরি কোনো নিশ্চিতকরণ বা খণ্ডন আসেনি।


