নিউইয়র্ক সিটির নতুন আবাসন পরিকল্পনায় “ব্লক বাই ব্লক” এর আওতায় সিটিজুড়ে ২ লাখ নতুন সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট তৈরি করা হবে, যাতে আগামীতে  আবাসন সংকট মোকাবিলা করা যায়। মেয়র জোহারান মামদানি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার অগ্রগতি ও সামগ্রিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য সরাসরি বিনিয়োগ, নতুন অর্থায়ন কৌশল এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে দ্রুত আবাসন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সিটিজুড়ে বিভিন্ন ধরনের আবাসনের সুযোগ বাড়ানোর জন্য ব্যাপক ভূমি ব্যবহার সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনার আওতায় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের মাধ্যমে ভাড়াভিত্তিক সাশ্রয়ী আবাসন, সিনিয়র হাউজিং এবং সহায়তাপ্রাপ্ত আবাসন উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ইতোমধ্যে বহু রাজনৈতিক নেতা, শ্রমিক সংগঠন এবং আবাসন সংস্থা এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছে।
মেয়র মামদানি বলেন, নিউইয়র্কে সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য বসবাস করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে, তাই শহরের প্রতিটি এলাকায় নতুন আবাসন তৈরি করা জরুরি। তার ভাষায়, এই পরিকল্পনা “ব্লক বাই ব্লক” পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে পুরো শহরজুড়ে আবাসন সংকট সমাধানের একটি রূপরেখা।
পরিকল্পনার অধীনে শুধু নতুন বাড়ি নির্মাণই নয়, বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণেও বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হবে। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট আগামী দুই বছরে রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসন খাতে ব্যয় করা হবে। এতে প্রবীণদের জন্য বিশেষ আবাসন ও সহায়ক আবাসন প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সিটির জমি ব্যবহার নীতিতেও পরিবর্তন আনা হবে, যাতে বিভিন্ন ধরনের আবাসন আরও সহজে তৈরি করা যায়। ট্রানজিট-সংলগ্ন এলাকায় বেশি হাউজিং নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে সিটির পরিবহন ব্যবস্থার কাছাকাছি বসবাসের সুযোগ বাড়ে।
ডেপুটি মেয়র লায়লা বোজর্গ বলেন, নিউইয়র্ককে সাশ্রয়ী করতে হলে প্রতিটি এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ অপরিহার্য। তিনি জানান, নতুন নীতি ও ভোটার-অনুমোদিত পরিকল্পনার মাধ্যমে আবাসন প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে এবং সরকারি অর্থ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে।
হাউজিং কমিশনার দিনা লেভি বলেন, সিটির প্রতিটি ওয়ার্ডে নতুন আবাসন তৈরি করা হবে, যাতে পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ি খুঁজে পেতে পারে। তার মতে, এই পরিকল্পনা শুধুমাত্র সংখ্যার লক্ষ্য নয়, বরং একটি “সাশ্রয়ী ও টেকসই সিটি” গড়ার প্রচেষ্টা।
পরিকল্পনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে সাশ্রয়ী ও মিশ্র আয়ের আবাসন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি স্কুল ও লাইব্রেরির মতো সরকারি স্থাপনার সঙ্গে মিলিয়ে নতুন হাউজিং ইউনিট তৈরির কথাও বলা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন “রিভোলবিং লোন ফান্ড” তৈরি করা হবে, যা আবাসন নির্মাণে বেসরকারি বিনিয়োগ আরও সহজ করবে। এছাড়া উন্নয়ন প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য আইনগত ও প্রশাসনিক সংস্কার আনা হবে, যাতে প্রকল্প অনুমোদনে সময় কম লাগে।