ভাড়া স্থগিত (Rent Freeze) করার দাবিতে ৪ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুইন্সে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের (RGB) গণশুনানির বাইরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছেন শতাধিক ভাড়াটিয়া। তাদের দাবি, নিউইয়র্ক সিটির ২৪ লাখেরও বেশি রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ভাড়াটিয়ার ওপর নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধির বোঝা চাপানো যাবে না। এক ও দুই বছরের সব ধরনের লিজের ক্ষেত্রেই ভাড়া বৃদ্ধি শূন্য শতাংশ রাখতে হবে।
জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত শুনানির আগে বিভিন্ন ভাড়াটিয়া সংগঠনের সদস্যরা “Freeze the Rent”, “No Increases on All Leases” এবং “Please Don’t Feed the Vultures” লেখা ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে সমবেত হন। প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা প্রতীকী ‘ভালচার ল্যান্ডলর্ড’ বা মুনাফালোভী বাড়িওয়ালাদের মুখোশও প্রদর্শন করেন।
আয়োজকদের দাবি, কুইন্সে ৪ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ভাড়াটিয়া এই সিদ্ধান্তের প্রত্যক্ষ সুফল পাবেন। পুরো নিউইয়র্ক সিটিতে এ সংখ্যা ২৪ লাখেরও বেশি।
অ্যাস্টোরিয়ার ভাড়াটিয়া নেতা পারভেজ হাসান ডলার বলেন, “কুইন্স অভিবাসীদের বরো। ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনও বহু অভিবাসী পরিবারের জন্য এই এলাকাকে বাসযোগ্য করে রেখেছে। এমন এক সময়ে যখন আইসিইর অভিযান বেড়েছে, তখন মানুষের বাড়িই সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। ভাড়া বৃদ্ধি শুধু আর্থিক চাপই সৃষ্টি করবে না, এটি পরিবার ও কমিউনিটিকে ভেঙেও দিতে পারে। তাই সব ধরনের লিজে ভাড়া স্থগিত করাই ন্যূনতম দাবি।”
ভাড়াটিয়া সংগঠনগুলোর ভাষ্য, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা রেন্ট ফ্রিজের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাড়া বৃদ্ধি হাজারো পরিবারকে আবাসন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, একদিকে মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে ফেডারেল পর্যায়ে মেডিকেইড, স্ন্যাপ (SNAP) এবং অন্যান্য সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিতে কাটছাঁটের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে আইসিই অভিযানের আশঙ্কা। এই প্রেক্ষাপটে নতুন ভাড়া বৃদ্ধি মানুষের জন্য আরও বড় সংকট তৈরি করবে।
নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লকের নির্বাহী পরিচালক সুমাথি কুমার বলেন, “তথ্য-উপাত্ত যা বলছে, ভাড়াটিয়ারা তা প্রতিদিন নিজেদের জীবনে অনুভব করছেন। মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, সামাজিক সুবিধা কমছে, অভিবাসী পরিবারগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। অথচ বাড়িওয়ালাদের আয় বছরের পর বছর বেড়েছে। তাই ভাড়াটিয়ারা কোনোভাবেই বাড়িওয়ালাদের ব্যর্থ বিনিয়োগের মূল্য দিতে রাজি নন।”
গত মাসে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের প্রাথমিক ভোটে এক বছরের লিজের জন্য ০ থেকে ২ শতাংশ এবং দুই বছরের লিজের জন্য ০ থেকে ৪ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির পরিসর প্রস্তাব করা হয়। বোর্ডের ইতিহাসে এই প্রথম দুই বছরের লিজের ক্ষেত্রেও শূন্য শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রাখা হয়েছে। ভাড়াটিয়া সংগঠনগুলো এটিকে আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে।
তাদের দাবি, গত চার বছরে ধারাবাহিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও অধিকাংশ ভবনে বসবাসের পরিবেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং অনেক ভাড়াটিয়া এখনও পর্যাপ্ত গরম পানি, হিটিং ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন।
ভাড়াটিয়া নেতারা আরও অভিযোগ করেন, অনেক বাড়িওয়ালা ভবনের উন্নয়নে বিনিয়োগ না করে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ঋণ পরিশোধ, নতুন সম্পত্তি কেনা এবং রিয়েল এস্টেট জল্পনা-কল্পনায় ব্যবহার করেছেন। এখন সেই আর্থিক চাপ সামলাতে তারা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি তুলছেন।
আন্দোলনকারীদের তথ্য অনুযায়ী, আগের মেয়র প্রশাসনের সময় চার বছরে মোট ১২ শতাংশের বেশি ভাড়া বৃদ্ধি অনুমোদন করা হয়েছিল। একই সময়ে রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ভবনের মালিকদের নেট অপারেটিং আয় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে অর্ধেকের বেশি ভাড়াটিয়া মাসিক ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন, দুই-তৃতীয়াংশ পরিবারের জরুরি সঞ্চয় নেই এবং ২০২৫ সালে উচ্ছেদ মামলার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
কমিউনিটি সার্ভিস সোসাইটির এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভাড়া স্থগিত করা হলে নিউইয়র্কবাসীরা বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারবেন, যা গড়ে মাসে প্রায় ৬০০ ডলারের সমপরিমাণ। জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কবাসীর ৭৮ শতাংশ বর্তমানে রেন্ট ফ্রিজের পক্ষে মত দিয়েছেন।
ভাড়াটিয়া সংগঠনগুলোর বক্তব্য, রেন্ট স্ট্যাবিলাইজেশন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো কর্মজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষকে শহরে টিকে থাকার সুযোগ করে দেওয়া। নিউইয়র্ক সিটির অতি নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ৩৭ শতাংশ এই ধরনের আবাসনে বসবাস করে। তাই বর্তমান আবাসন সংকটের সময়ে ভাড়া স্থগিত করা শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আগামী ২৫ জুন রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের চূড়ান্ত ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেই ভোটে এক ও দুই বছরের সব লিজের জন্য পূর্ণাঙ্গ রেন্ট ফ্রিজ


