প্রবাসের মাটিতে দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দিতে নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’। গত ১৭ মে জ্যাকসন হাইটসের রাজপথে লাল-সবুজের পতাকা হাতে শামিল হন শত শত প্রবাসী বাঙালি। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত আর উৎসবমুখর উপস্থিতিতে নিউইয়র্কের বুকেই যেন জেগে উঠেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ। এতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন।

প্যারেডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সুসজ্জিত ব্যান্ড দল এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সরব উপস্থিতি। অনুষ্ঠানে প্রবীণদের পাশাপাশি, বর্ণিল পোশাক আর হাতে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে নতুন প্রজন্মের কিশোর-তরুণদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

বহুজাতি ও সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল নিউইয়র্কের বুকে এমন আয়োজন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের আত্মপরিচয়কে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা বলেন, প্রবাসের মাটিতে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা জানান, নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক শহরে লাল-সবুজের পতাকা হাতে একসঙ্গে অংশ নিতে পারা তাদের জন্য গর্বের বিষয়।

অনেকেই বলেন, বাংলাদেশ ডে প্যারেড শুধু একটি উৎসব নয়, এটি প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের প্রতীক। নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করাতে এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন তারা।


ভক্সপপ

আয়োজকরা জানান, প্রায় শতাধিক সংগঠন এই প্যারেডে যুক্ত ছিলেন। রাস্তাজুড়ে শৃঙ্খলিতভাবে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বাংলাদেশি শিল্পী ও সাংস্কৃতিক দলগুলো পরিবেশনায় অংশ নেয়, যা প্রবাসীদের পাশাপাশি ভিনদেশিদেরও আকৃষ্ট করে।

সুশৃঙ্খল এ আয়োজনে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কয়েকজন অভিনেতা, অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী অংশ নেন। প্রবাসী সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর শিল্পীরা নাচ ও গানের পরিবেশনায় প্যারেডকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। এ সময় রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে ভিনদেশিরাও বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য উপভোগ করেন।

এবারের বাংলাদেশ ডে প্যারেড আয়োজক কমিটিতে ছিলেন গ্র্যান্ড মার্শাল এম আজিজ, চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, কনভেনর গিয়াস আহমেদ, মেম্বার সেক্রেটারী ফাহাদ সোলায়মান, চিফ ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর লায়ন ফেডি রকি, কো-চেয়ার ক্যাপ্টেন প্রিন্স আলম এবং গ্র্যান্ড স্পন্সর এনওয়াই হোমকেয়ারের ডাইরেক্টর ফয়সল আজিজসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।